সম্পাদকীয়

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হোক

ধনীদের সম্পদে করছাড় আগের চেয়ে আরও বাড়লেও মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্তের করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিতই থেকে গেল, যদিও এই করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টজনদের প্রতিশ্রুতিও ছিল। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এবারের বাজেট প্রস্তাবে করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা আগের চেয়ে কমে আসবে। কেননা এখানে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
বর্তমানে ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা রয়েছে ৪০ লাখ। তাদের মধ্যে ২০ লাখ ব্যক্তি রিটার্ন দাখিল করছেন। যদি করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হতো, তবে এই করদাতার সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু প্রকৃত আয় না বাড়লেও কেবল মূল্যস্ফীতির কারণেই এই আড়াই লাখ টাকার করসীমার মধ্যে অনেকেই চলে আসবেন সামনের দিনে। তবে অনেক উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, সেখানে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের সমান, অথবা মাথাপিছু আয়ের ২৫ শতাংশের কম। আবার অনেক দেশে করমুক্ত কোনো আয়সীমা না থাকার নজির পেশ করা হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের দেড়গুণের বেশি। এক্ষেত্রে দেশের মোট সম্পদে সব আর্থিক শ্রেণির মানুষের মালিকানাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করে দেখতে হবে। উল্লেখ্য, অক্সফামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে ধনী পাঁচ শতাংশের মানুষের হাতে রয়েছে জাতীয় আয়ের ২৫ বা ২৬ শতাংশ। বিপরীতে দেশের অতিদরিদ্র পাঁচ শতাংশের কাছে রয়েছে এক শতাংশেরও কম।
বিপরীতে বিত্তবানদের সম্পদের সারচার্জে নিন্মসীমা বাড়ানো হয়েছে। বাস্তবচিত্রে দেখা যায়, এই বিত্তবানদের অনেক সম্পদ অপ্রদর্শিতই রয়ে যায়। ফলে তাদের সারচার্জ কার্যত তেমন বেশি একটা পরিশোধ করতে হয় না। এখানে বাজেট প্রস্তাবনাটি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যজনিত সমালোচনা থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজের (এসএমই) বার্ষিক টার্নওভারের আয়করসীমা ৩৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতের রফতানি আয়কে করমুক্ত রাখার সময়সীমা আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। নিঃসন্দেহে এখানে ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে। আবার নারী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সি, প্রতিবন্ধী ও গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করের সীমা আগের অবস্থায় স্থির রাখা হলেও মুদ্রাস্ফীতিজনিত কারণে প্রকৃত আয়করের সীমা আশঙ্কাযুক্ত হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি চলমান থাকার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকলে দেশের বেশিরভাগ জনসংখ্যার স্বার্থ উপেক্ষা করা হবে। পক্ষান্তরে ধনীদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার ফলে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও প্রকট রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা থাকছে। তাই সরকার এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে সংশোধনী আনবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..