করমুক্ত আয়ের সীমায় পুনর্বিবেচনা কাম্য

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণিতে করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়ানোয় হতাশা প্রকাশ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের নেতারা বলেছেন, এটি বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগ কম। শুধু এ সংগঠন নয়; আমরা লক্ষ করছি, বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আরও কিছু সংগঠনের নেতা ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ব্যক্ত করেছেন একই রকম অভিমত। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ওপর চাপ বাড়বে। এর প্রভাব নানাভাবে পড়বে তাদের জীবনযাত্রায়। আমরা মনে করি, এ ইস্যুতে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়া দরকার। বাজেট পর্যালোচনায় সংসদ সদস্যরাও এর সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিষয়টি আলোচনায় আনবেন বলে আশা।
বস্তুত ব্যক্তিশ্রেণিতে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ হয়েছিল তিন বছর আগে। এর সঙ্গে প্রত্যেক বছরই কিন্তু যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি। অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হিসাব করলে দেখা যাবে, করমুক্ত আয়ের সীমা আগের তুলনায় বরং কমেছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছিÑউন্নত দেশগুলোয় করমুক্ত আয়ের সীমা সাধারণত মাথাপিছু আয়ের ২৫ শতাংশের নিচে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এটি থাকে মাথাপিছু আয়ের সমান বা তার কম। কিন্তু বাংলাদেশে করমুক্ত আয়ের সীমা মাথাপিছু আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। তার বক্তব্যে একধরনের যুক্তি রয়েছে। তবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার মধ্যে বিশেষত যারা চাকরিজীবী, তাদের আয় বর্তমানে প্রতি বছর যে হারে বাড়ছেÑদেশে মূল্যস্ফীতির হার তার চেয়ে বেশি। ব্যক্তিশ্রেণিতে চাকরিজীবীর বাইরে যেসব করদাতা রয়েছেন, তাদের অবস্থাও যে খুব ভালো; সেটি জোর দিয়ে বলা যাবে না। সর্বোপরি প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা হয়েছে ভোটার তুষ্টির দিকে। আমাদের ধারণা, এক্ষেত্রে প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা না হলে সার্বিকভাবে বাজেট ঘিরে সরকারের লক্ষ্য পূরণ কিছুটা হলেও ব্যাহত হতে পারে।
অস্বীকার করা যাবে না, কর প্রদানে সক্ষম বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি এর জালের বাইরে রয়েছেন মূলত তদারকির অভাবে। আর একটি শ্রেণি কর প্রদান করে না যথাযথভাবে। ফাঁকির প্রবণতা তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এক্ষেত্রে তদারকি জোরদার করেও কিন্তু করজাল বিস্তৃত এবং এর ভিত্তি মজবুত করা যায়। এটা নিশ্চিত করা গেলে বিশেষত যাদের আয় কম ও নির্দিষ্ট, তারা একরকম হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। আমাদের পর্যবেক্ষণÑকিছু ক্ষেত্রে নতুনভাবে করারোপ ও হার বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে ভবিষ্যতে। এ অবস্থায় করমুক্ত আয়ের সীমায় কিছুটা ছাড় দেওয়া না হলে জীবনযাত্রার ওই বাড়তি ব্যয় সমন্বয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সামনে গ্রহণযোগ্য কোনো বিকল্প থাকবে না। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে করজাল আরও বিস্তৃত এবং এর ভিত্তি শক্তিশালী হোকÑআমরা সেটা চাই। তবে এটি পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতাদের ওপর যেন বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত বাজেটে উপযুক্ত সংশোধনী দেখতে চাইব আমরা।