ধারাবাহিক

করারোপ ও বিনিয়োগ দর্শন

মিজানুর রহমান শেলী: চার্লি মাঙ্গারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অপরিসীম। তিনি আমার চিন্তার সারথি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক গভীর ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সম্পর্কের জায়গা থেকে আমরা উভয়ে বার্কশায়ারকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। নিশ্চয় আমার চিন্তায় এবং কাজে চার্লির প্রভাব ও অবদান রয়েছে। তবে আমার সফলতার আশপাশে আরও অনেক মানুষ রয়েছে। তাদের সবার প্রতি একেক করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেও হয়তো এই লেখায় তার বর্ণনা খানিকটা মাত্র শেষ করা যাবে।
আমি বব ডেনহামের নামটি এই পর্যায়ে স্মরণ করতে চাই। তিনি আমার পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি অবাক হয়েছি ডেনহামের এই কাজে। আমার সফলতার সঙ্গে নিশ্চয় এই মহৎ কাজের মূল্য রয়েছে। আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সুসান বাফেট ও হাওয়ার্ড বাফেট। এই যোগ দানের পেছনে ডেনহামের কীর্তি অনস্বীকার্য। তাছাড়া আমাদের সঙ্গে ডেনহামের হাত ধরে আরও যোগ দিয়েছেন অজিত জেইন, ক্যারোল লুমিস, বব মুনধেইম ও লৌ সিম্পসন। আর এ প্রসঙ্গে ডিব্বি বোসনাকের নামটি অবশ্য স্মরণীয়।
স্যাম ও রনি হেইম্যানের নাম চলে আসে। আমার যত বড় বড় সিম্পোজিয়াম হয়েছে তার সিংহভাগ অবদান রয়েছে এই দুটো মানুষের। তারা এসব সিম্পোজিয়ামে আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। বস্তুত আমাদের সিম্পোজিয়ামকে আরও বেশি গতিশীল ও মসৃণ করার জন্য তাদের অবদান ছিল উদার ও মহৎ। এমনকি আমরা আমাদের এসব সিম্পোজিয়ামের আয়োজনও করতে পেরেছি স্যামুয়েল অ্যান্ড রনি হেইমেন সেন্টারে। এখানে আমরা করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে আলোচনা-বক্তৃতা করেছি। এই করপোরেট গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্র ছিল কার্ডোজো স্কুল অব ল। এই সিম্পোজিয়ামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই নিশ্চিয় এই হেইম্যানদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। এমনকি তারা আমাদের যে আতিথেয়তা করেছেন এটা ভোলার মতো নয়। প্রতিটি সপ্তাহ শেষে আমরা এরকম একটি কনফারেন্স করেছি। আর এসব কনফারেন্সে তিনি বহুসংখ্যক অতিথির আতিথেয়তা করতে কোনো কার্পণ্য করেননি। বস্তুত এই কার্ডোজোতে আমাদের স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে সম্ভব করে তোলার জন্য চমৎকৃত করার জন্য হেইম্যানদের ভূমিকার কাছে আমরা গভীরভাবে ঋণী।
এসব প্রকল্পে কার্ডোজোতে আমার যেসব সতীর্থ সহকর্মী ছিল তাদের অবদান অপরিসীম। তারা আমাদের আসলে অব্যর্থ সমর্থন জুগিয়েছেন। বিশেষ করে আমি আর্থুর জ্যাকবসনের নাম তুলে আনতে চাই আমার এই স্মরণ খাতায়। আর্থুর এ কনফারেন্সের বিভিন্ন ধারণাকে উৎসাহিত করে তুলেছিল। এই কীর্তিটার অবশ্যই তিনি দাবিদার হবেন। এরপরেই আমি মনরো প্রাইসের নামে কিছু বলব। তিনি যেন এই কনফারেন্সের সবকিছুরই ধারক ছিলেন। তিনি এসব কিছুকে সম্ভব করে তোলার পেছনে কাজ করেছেন। চুক ইয়াবলোন নামের আমার এক সহকর্মী ছিলেন কার্ডোজে। তিনি আমার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখেন। আমি তাকেই এ ধন্যবাদটি জ্ঞাপন করি। তাছাড়া আমার সঙ্গে কার্ডোজে আরও যারা কাজ করেছেন তারা এবং হেইম্যান সেন্টারে ডিরেক্টর হিসেবে যারা ছিলেন তাদের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা আমার সফলতার অনুঘটক হিসেবে প্রকাশ পায়। বিল ব্রাটন ও ইলিয়ট উইসের নাম তাই চলে আসে। তারাই ছিলেন হেইম্যান সেন্টারের ডিরেক্টর। এমনকি এরাও আমাদের কনফারেন্সে অংশ নিত অন্য সবার মতো।
১৯৯৬-৯৭ সালের কথা বলছি। এ সময় কার্ডোজো ল রিভিউয়ের ডিরেক্টর ছিলেন দুজন: স্ট্যাচি গ্লোডস্মিথ ও জেনিফার নিউকম্ব। তাদের দুজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমাদের সিম্পোজিয়ামের পরিকল্পনা ও সমন্বয় সাধনের কাজটি সহজ হয়ে এসেছিল। তারা যেন আমাদের দুর্গের মতো আগলে রেখেছিল যখন আমরা জর্জ ওয়াশিংটন ল’ স্কুল ভ্রমণে গিয়েছিলাম। এটাও সেই ১৯৯৬-৯৭ সালের কথা। এরপরের বছরজুড়ে অর্থাৎ ১৯৯৭-৯৮ সালে কার্ডোজো ল’ রিভিউয়ের সম্পাদক ও অন্যান্য কর্মী একসঙ্গে আমাদের সবগুলো সিম্পোজিয়াম ও সেমিনারের ভলিয়ম বের করতে প্রায় পুরোটা সাহায্যই করেছিল। তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইল। বিশেষ করে আমি এখানে কেন দুর্সাত, ইউলান লি, মার্ক ওহ এবং স্টিভ স্পার্লিংয়ের নাম উচ্চারণ করতে চাই কৃতজ্ঞতা পাশে।
আবার আমার জিডব্লিউ ল’ স্কুলের সহকর্মীরাও ছিলেন অতিশয়-সহায়ক। বিশেষ করে ল্যারি মিশেলের কথা উল্লেখ করতে হয়। তিনিও আমাদের সিম্পোজিয়ামে অংশ নিতেন। একইভাবে ডিন জ্যাক ফ্রাইডেনথালের নাম স্মরণ করি।
আমি ডেভিড রুডেনস্টাইনের কথা স্বীকার করতে ইচ্ছুক। তিনিই ১৯৯৬-৯৭ সালে আমাদের কার্ডোজে অন্তর্বর্তীকালীন ডিনের দায়িত্ব পালন করেন। পল ভার্কুল, তিনি ছিলেন এ সময়ের আগ অবধি ডিন। এছাড়া কার্ডোজে আরও কিছু মানুষ ছিল যারা বস্তুত আমাদের সম্পদ। তারা আমাদের এই প্রকল্পে সহায়তা করেছিলেন। এদের সঙ্গে সহকারী ডিন মিশেল হার্ৎজের নাম স্মরণ করি। তাছাড়া সিনথিয়া চার্চ, সুসান ডেভিস ও পওলেট ক্রাউসারের নামও স্মরণীয়।
আর আমার সচিবদের নাম স্মরণ না করলেই নয়। লিলিয়ান ক্যাস্টানন ছিলেন কার্ডোজে এবং স্টেফিন বয়োড ছিলেন জিডব্লিউয়ে। এরা দুজনেই আমাদের বিশাল সেবা দিয়েছে।
তাছাড়া আমার সফলতার সারথি হিসেবে আমার পরিবারের সব সদস্য বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখে। বিশেষ করে আমি আমার ভাতিজা জাস্টিন কানিংহামের কথা কৃতজ্ঞ-স্বরে স্মরণ করতে চাই। তাছাড়া আমি আমার বহু বন্ধুর নাম জানি যারা আমাকে সব সময়ই উৎসাহ দিয়ে চলেছে। এদের মধ্যে ডানা অসল্যান্ডার, রবিন গ্রান্ট, বিল প্লেইক, মিশেল রোথ ও দেব স্কুলিংকের নাম না বললেই নয়। অন্যদিকে আমার পুরোনো বন্ধু ও সহকর্মীদের নামও স্মরণ করি। যেমনÑক্রাভাথ, সুয়াইন ও মুর, জো অ্যাডামস, স্যাম বাটলার, জেফ হ্যাস, ডেইভ জ্যাকুইন, ট্যাড ও’কন্নোর, ডেবি পল ও টড রবার্টস।
আমাদের সিম্পোজিয়ামে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের প্রতি আমার বিশেষ ধন্যবাদ। বিশেষ করে প্যানালিস্ট হিসেবে যে দলগুলো আমাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন তাদের প্রতি আমার ধন্যবাদ রইল। তাদের অবদান বিভিন্নভাবে তাদের প্রস্তাবিত পত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। এগুলো সিম্পোজিয়ামের অংশ হিসেবে কার্ডোজ ল’ রিভিউয়ের প্রকাশ পেয়েছিল।
জিডব্লিউ ল’ স্কুলের আমার সহকর্মী ও সহ-লেখক লিও সলোমনকে স্মরণ করি। যখন আমি বলেছিলাম আমার অবসর নেওয়া উচিত, তখন তিনি এ কথা শুনে আমাকে বকা দিয়েছিলেন। তিনি আমার সাফল্যের পেছনের একজন শক্তিশালী মানুষ।
কনফারেন্স যখন আয়োজিত হলো তখন এর আয়োজকদের মাঝে পরিণতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বিগ্নতা সৃষ্টি হয়েছিল। অবশ্য আমরা সফল হয়েছিলাম। আর এ সফলতার পেছনে কৃতিত্ব দিতে হয় তাদের যারা এখানে অংশ নিয়ে স্বেচ্ছায় সবকিছু সমন্বয় সাধন করেছিলেন। তাদের শ্রম ছিল সাফল্য শিকারি। আমি আমার ভবিষ্যৎ কাজে এদের সবাইকে পাশে পেতে চাইব।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম।
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ।

সর্বশেষ..