করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে

প্রস্তাবিত বাজেটে এমসিসিআই’র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের জন্য মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকা (এমসিসিআই) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ধন্যবাদ জানায়। প্রস্তাবিত চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট মূল বাজেটের চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা।
বাজেটে দেশের উন্নয়নশীল মর্যাদা পাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক উন্নতিকল্পে রাজস্ব সংগ্রহ, দারিদ্র্য হ্রাস, স্থানীয় শিল্পসমূহকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান এবং মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য যোগ্য জনগণের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের বিদ্যমান নিরাপত্তাজাল বিস্তৃতকরণে জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্য স্থিতিকরণ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উদ্দেশ্য প্রণয়নের জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই।
এমসিসিআই মনে করে, বাংলাদেশের অর্থনীতি সন্তোষজনকভাবেই এগিয়ে চলেছে। অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্পতা অর্থনীতির অগ্রগতির বড় বাধা। রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি এবং এডিপির দুর্বল বাস্তবায়নও বর্তমানে অর্থনীতির জন্য বড় দুশ্চিন্তা।
বাজেটে জাতীয় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা; যা গত বছরের সংশোধিত বাজেট ২২৫ হাজার কোটি টাকার ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত ছক অনুসারে মূল্য সংযোজন করের অবদান (১১০,৫৪৩ কোটি টাকা) সবার উপরে। এর পরেই রয়েছে আয়কর (১০২,২০১ কোটি টাকা) এবং আমদানি শুল্ক (৪৩,৪৫৭ কোটি টাকা)। যদিও কর প্রদানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও চেম্বার মনে করে ২০১৯ সালে করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে। করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর প্রদানে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপানোর জন্য এমসিসিআই জোর সুপারিশ করছে; এর পরিবর্তে কর সংগ্রহের জন্য নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং কর আদায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
এমসিসিআই মনে করে, কিছু কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করা প্রয়োজন, যেমন নীতির সংস্কার, করনীতির সহজীকরণ, ব্যবসায় বান্ধবনীতি, সক্ষম ব্যবসার পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ব্যবসার পরিচালনা সহজীকরণ, প্রণোদনা প্রদান, করহ্রাস এবং সবকিছুর সমন্বিত একটি নীতি পরিকল্পনা। যদিও সরকার মনে করে, দেশে কর্মসংস্থান চালিত উন্নয়নের নীতির মডেল গ্রহণ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট এ নীতির প্রতিফল পাওয়া দুষ্কর।
প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু ব্যাংক, বিমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কর হ্রাস করেছে যা সন্তোষজনক। কিন্তু করপোরেট কর হার হ্রাস করা হয়নি, যা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি।
ব্যক্তি শ্রেণির করসীমা বৃদ্ধি না করায় এমসিসিআই হতাশা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে ই-কমার্স অনেক নতুন উদ্যোগের ফলে করভারে এ সব নতুন উদ্যোগকে তাদের উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নিরুৎসাহ করা ঠিক হবে না। ই-কমার্সের ওপর ধার্যকৃত পাঁচ শতাংশ হারে কর মওকুফের আবেদন জানাচ্ছি। তেমনিভাবে রাইড শেয়ারিং সেবা যেমন উবার ও পাঠাও পরিচালনা উদ্যোগ জনসাধারণের প্রয়োজন মেটায় এ সব সেবা খাতে পাঁচ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ ঠিক হবে না।