কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)

অ্যামোনিয়া বা ইউরিয়া সার উৎপাদন করে কাফকো। অ্যামোনিয়াম, ইউরিয়া ও ইউটিলিটি প্লান্টের মাধ্যমে ইউরিয়া উৎপাদন করে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হয় এর পণ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় কাফকোর পণ্য। দেশের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বহুজাতিক যৌথ উদ্যোগ প্রকল্প এটি।

কাফকো প্রকল্পের ধারণাটি শুরু হয় সত্তর দশকের শেষ ভাগে। তখন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন বা আইএফসি বাংলাদেশের একটি রফতানিমুখী নাইট্রোজেন রাসায়নিক কারখানা নির্মাণের সম্ভাব্যতা বিবেচনায় আনে। মূলত দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জনের উপায় খোঁজা হচ্ছিল। তাই আন্তর্জাতিক অ্যামোনিয়া প্রযুক্তির লাইসেন্স প্রদান ও যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডেনমার্কের হ্যাল্ডর টপসোয়ে এ/এস (এইচটিএএস) ও সুইডেনের সুইডইয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এসডিসি) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই সময় এসডিসি বাংলাদেশের জাহাজনির্মাণ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বার্জ মাউন্টেড অ্যামোনিয়া ও মিথানল কারখানা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের জুলাইয়ে কাফকো নিবন্ধিত হয়। জাপান সরকার এ প্রকল্পের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে বেগবান হয় কাফকো প্রকল্প। বিশেষ করে জাপানের ওভারসিজ ইকোনমিক করপোরেশন, মারুবেনি করপোরেশন ও চিভোদা করপোরেশনসহ হ্যাল্ডর টপসোয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ, নেদারল্যান্ডের স্ট্যামিকার্বন বিভি ও কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ও বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। পরে মূল বিনিয়োগকারীরা কাফকোর অংশীদারে পরিণত হয়। সংস্থাটির অর্থায়ন, উন্নয়ন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, কারিগরি ও ব্যবহারিক সেবাসহ বাজারজাতকারণে অংশ নেয়।

১৯৮৮ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় কাফকো। আরও পরে ১৯৯৪ সাল থেকে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৫ সালের ৩১ জানুয়ারি। অল্প সময়ের মধ্যে সব প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ শোধ করতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয় কাফকো প্রকল্পে। একটি মাত্র কারখানার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব প্রাপ্য পরিশোধ করে।

উৎপাদন, সমন্বয় ও টেকনিক্যাল সার্ভিস এই তিন ভাগে বিভক্ত কাফকো। এখানে রয়েছে চারটি সমন্বয়কারী বিভাগ। এগুলো হচ্ছে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল ও ইনস্ট্র–মেনটেশন। অ্যামোনিয়া প্লান্টে হ্যাল্ডর টপসোয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা হয়। স্বল্প শক্তি ব্যয় হয় এমন টপসোয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ইউরিয়া প্লান্টে স্ট্যামিকার্বনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে কাফকো। এখানে ব্যাগ তৈরির সরঞ্জাম ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাগে ইউরিয়া ভর্তি করার সুবিধা রয়েছে।

পণ্য সরবরাহ ও গুণগতমান ঠিক রাখার জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলি পূরণ করা হয় এখানে। এর আগে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয় সব পণ্য।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানা রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে এর অবস্থান। প্রায় ৬০০ কর্মী প্রতিষ্ঠানটিতে। তাদের দক্ষ ও পরিশীলিত করে তোলার চেষ্টা করা হয়। কর্মীদের স্বয়ম্ভর করে তুলতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দক্ষ করে তোলার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা পূরণ করে কাফকো। কারখানার কর্মীদের জন্য হাউজিং কলোনি রয়েছে কারখানা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে। এখানে বিদ্যালয়, মেডিক্যাল ক্লিনিক ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট অফিস রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের আইডিবি ভবনে। সব কর্মীর জন্য নিরাপদ কর্মস্থল উপহার দিয়ে চলে কাফকো। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে ব্রিটিশ সেফটি কাউন্সিল থেকে ফাইভ স্টার মার্ক অর্জন করে কাফকো।

পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন আবদুল্লাহ, নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, শাহ মোহাম্মদ আমিনুল হক প্রমুখ।

শেয়ারহোল্ডার

বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)

কাফকো জাপান

জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সি (জাইকা)

মারুবেনি করপোরেশন

চিভোদা করপোরেশন

সাব কন্টিনেন্ট অ্যামোনিয়া

ইনভেস্টমেন্ট কো.

ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (আইএফইউ)

স্ট্যামিকার্বন

 

রতন কুমার দাস