সম্পাদকীয়

কর্মক্ষম জনশক্তি কাজে লাগাতে পদক্ষেপ নিন

প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষ ১০ কোটির ওপরে। এর একটি বড় অংশই তরুণ। এ শ্রেণিকে যত বেশি দক্ষ করা যাবে এবং কাজে লাগানো যাবে, দেশও তত এগিয়ে যাবে। জনমিতির লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রেও এক দশকেরও অধিক সময় আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি এমনটাই বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মানে দাঁড়ায়, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম। এ পরিস্থিতি দেশের জন্য আশীর্বাদ হলেও হতাশাজনকভাবে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে তরুণ জনশক্তি ক্রমেই কমে আসছে। সানেম ও অ্যাকশনএইডের সংলাপেও বিষয়টি উঠে এসেছে, যা উদ্বেগজনক।
ওই সংলাপ নিয়ে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘কর্ম শিক্ষা প্রশিক্ষণ কোথাও নেই জনশক্তির ৩০ শতাংশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ধীরে ধীরে কমে জনমিতি লভ্যাংশ ও তরুণ জনশক্তি কমছে। এ পর্যায়ে তরুণদের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন হলেও তেমনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
অধিকাংশ দেশ তরুণ জনশক্তিকে মূল পরিকল্পনায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। অথচ আমাদের সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ, যার মধ্যে উচ্চশিক্ষিতই সাড়ে ১০ লাখ। এই বিপুলসংখ্যক জনশক্তিকে কর্মহীন রেখে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে না। সানেমের সংলাপে শিক্ষা উপমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, গতানুগতিক রাজনীতির মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য দিয়ে দেশ গড়া যাবে না। এক্ষেত্রে পলিসিনির্ভর হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সে অনুযায়ী বাস্তবতা হলো, জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলে কাজে লাগাতে না পারলে সংকট আরও বাড়বে।
খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণ জনসংখ্যা ২০১৭ সালে ২৮ শতাংশ থাকলেও ২০৩০ সালে সাড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি তরুণ শ্রমশক্তি কমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই কোটি এক লাখে পৌঁছেছে। মোট জনশক্তির ২৯ দশমিক আট শতাংশ কর্মে, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণে কোথাও নেই। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনসংখ্যার বোনাসকাল কাজে লাগাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় নজর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া এ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে কর্মমুখী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প নেই। অবশ্য অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, বাজেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। শুধু এতে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নও জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সব খাতকেই এগিয়ে আসতে হবে।

 

সর্বশেষ..