সুশিক্ষা

কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্ব

বি শে ষ জ্ঞে র প রা ম র্শ

জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে কে না চায়! এ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দরকার অনেক বিষয়। চাই ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার উন্নয়ন।
দক্ষতা বিষয়টির ব্যাপকতা বিশাল। একটি দক্ষতা আরেকটি দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। আর সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন বেশ কয়েকটি বিষয়ের দক্ষতা। দক্ষতার তালিকায় ‘কমিউনিকেশন’ বা ‘যোগাযোগ’ ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আমরা উন্নত দেশের তুলনায় বেশ পিছিয়ে। আমাদের দেশে যোগাযোগে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওইসব দেশের মতো ততটা জোর দেওয়া হয় না। অথচ শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ী সবাইকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন যোগাযোগবিষয়ক ব্যাপক দক্ষতা।
যোগাযোগ দক্ষতার উপকারিতা অনেক। চাকরির ইন্টারভিউ ও চাকরি নিশ্চিত করতে এর গুরুত্ব রয়েছে। একটি খালি পদের জন্য অনেক প্রার্থী আবেদন করে। সবাই ইন্টারভিউ পর্যন্ত যেতে পারে না। এজন্য বাছাই করা হয় কয়েকটি জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বা তারও অনেক আগে থেকে শুরু হয় নানা প্রয়োজনে সিভি তৈরি। নিজের পরিচয়, অর্জন এবং যোগ্যতার কথা সংক্ষেপে ও নির্ভুলভাবে সিভিতে তুলে ধরতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেহেতু ইংরেজি ভাষায় সিভি লিখতে হয়, তাই এ ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। ইংরেজিতে বানান বা ব্যাকরণ যেন ভুল না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়।
অন্যের জীবনবৃত্তান্ত অনুকরণ করে নিজের সিভি তৈরি করা যাবে না। সিভি বাছাইয়ে অধিকাংশ আবেদনকারী এভাবেই বাদের তালিকায় পড়ে যান। ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা থাকেন তারা অবশ্যই চিন্তা করেন যে, আবেদনকারী বা প্রার্থী নিজের সিভি নিজে তৈরি করতে পারেন কি না। তা না পারলে সেই প্রার্থী কীভাবে নতুন পদের দায়িত্ব নেবেন? তাই নিজের সিভি নিজেরই তৈরি করা উচিত। ভালো কিছু সিভির নমুনা দেখে একটা ধারণা নেওয়া যেতে পারে। তারপর নিজেই তৈরি করা সম্ভব আকর্ষণীয় একটি সিভি।
চাকরি পেতে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। অনেক আবেদনকারীর মধ্যে আপনাকে কেন চাকরিতে নেবে সেটা নিজেকেই বোঝাতে হবে। আপনি চাকরিতে নিযুক্ত হলে তাদের প্রতিষ্ঠানের কী কী উন্নয়ন হবে, সেটা তাদের বোঝাতে হবে আপনাকে।
সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে সহজে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। তাই জানতে হবে চিঠি, ইমেইল ও টেলিফোনের ভাষা। অনেক সময় বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। তাদের নিজস্ব কিছু সম্মান প্রদর্শনের নিয়ম আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে একটু গবেষণা করে শিখে নিতে হবে তাদের সংস্কৃতি।
লিখিত ভাষায় খুব নমনীয়ভাবে কাজের উপদেশ দিতে হয়। কঠিন কথা খুব সহজ ভাষায় লেখা যায়। যেকোনো কথাকে গুছিয়ে বলা এক ধরনের শিল্প। যেমন একজন ভালো এইচআর এক্সিকিউটিভ ওয়ার্নিং লেটার লেখার সময় অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করে লিখবেন। যেকোনো সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
অফিসে কাজের নির্দেশ শুধু মৌখিকভাবে দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ সময় লিখিত নোটিস বা ইমেইলে দেওয়া হয়। অফিসের কর্মীদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং সহকর্মী ও ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেও প্রয়োজন যোগাযোগের ভালো কৌশল। এ যোগাযোগ দক্ষতা তাই আপনাকে স্বকীয় করে গড়ে তুলতে পারে। আপনার সুন্দর কর্মজীবন ব্যক্তিজীবনে প্রভাব রাখে। শুভ হোক কর্মজীবন। স্নিগ্ধ হোক ব্যক্তিজীবন।

জেনিফার হোসেন
কমিউনিকেশনস ম্যানেজার, অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব বিজনেস লিডারশিপ
অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

সর্বশেষ..