প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কাঁচা চামড়া কিনতে ৬১০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে চার ব্যাংক

কাঁচা চামড়া কিনতে ৬১০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে চার ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্যান্য বারের মতো এবারও কোরবানির ঈদে জবাই করা পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকারি চার ব্যাংক। এবার ৪০-৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬১০ কোটি টাকা ঋণ দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জনতা, রূপালী, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক।
শর্ত অনুযায়ী, আগের বছরের ঋণ যারা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে তারাই এই ঋণ পাচ্ছে। গত বছর এই ব্যাংকগুলো কাঁচা চামড়া কিনতে ঋণ দিয়েছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, এবারও চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে চামড়া কিনতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটি এ বছর প্রায় ২০৫ কোটি টাকা এ খাতে ঋণ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান প্রধান। আগের বছর এ খাতে রূপালী ব্যাংক ঋণ দিয়েছিল ১৫০ কোটি টাকা।
আর জনতা ব্যাংক এ বছর ২০০ কোটি টাকা এ খাতে ঋণ দিচ্ছে। গত বছর ব্যাংকটি এ খাতে ঋণ দিয়েছিল ২০৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংক এবার চামড়া কিনতে ঋণ দিচ্ছে ১৩৫ কোটি টাকা। গত বছর কোরবানির ঈদে এই ব্যাংকটি ঋণ দিয়েছিল ১০০ কোটি টাকা। আর সোনালী ব্যাংক এ বছর ৭০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। ভুলুয়া ট্যানারি, আমিন ট্যানারি ও কালাম ট্যানারিকে এ ঋণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গত বছরও এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, কম সুদেই এসব ঋণ দেওয়া হয়। মাত্র সাত শতাংশ সুদে এই ঋণ নিয়ে কাঁচা চামড়া কেনেন ব্যবসায়ীরা।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া কেনার ঋণ মূলত এক বছরের জন্য পাওয়া যায়। যারা গত বছরের টাকা পরিশোধ করেছে তারাই ঋণ পায়। এ বছর সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে চামড়াশিল্পে অর্থের সংকট চলছে। দুই-তিনজন ব্যবসায়ী ছাড়া কেউ ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। তাই নতুন করে অনেকেই ব্যাংকঋণ পাবেন না। ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।
জানা গেছে, চামড়া খাতে নেওয়া ঋণের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকাই খেলাপির তালিকায় যুক্ত হয়েছে। চামড়া খাতের ব্যাংকঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক থেকে চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এ খাতে তাদের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত রয়েছে।
ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা জানান, আগে চামড়া কেনার কথা বলে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ফেরত দিতেন না। এ কারণে ব্যাংকগুলো বর্তমানে এই ঋণ দেওয়ার আগে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। আগের ঋণের কিস্তি বাকি থাকলে সেই গ্রাহককে নতুন করে ঋণ দেওয়া হয় না।
এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল ইসলাম জানান, চামড়া খাতে মূলত নব্বই দশকে নেওয়া ঋণ খেলাপি হয়েছে। বর্তমানে এ খাতে নেওয়া ঋণ খেলাপি হচ্ছে না। দুই-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া এখন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই টাকা ফেরত দিচ্ছে।
কোরবানির সময় একসঙ্গে অনেক কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ কারণে একসঙ্গে অনেক নগদ টাকার প্রয়োজন হয় তাদের। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এই ঋণ দিয়ে থাকে। এটা সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য এক ধরনের সহায়তা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া কিনে রফতানি করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে। এ খাতে পুরোনো কিছু খেলাপি ঋণ থাকলেও গত দুই বছর ধরে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..



/* ]]> */