সারা বাংলা

কাজে আসছে না নোয়াখালীর ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: মা ও শিশুর কোনো কল্যাণেই আসছে না নোয়াখালীর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। ২০০৫ সালে মা ও শিশুর কল্যাণের কথা চিন্তা করে সরকার জেলা শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে। অভিযোগ উঠেছে, উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত তেমন কোনো সেবা পাননি কোনো মা ও শিশু।
গত ১৪ ও ১৫ এপ্রিল দুপুরে গিয়ে তালিকাভুক্ত ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাত্র একজন আয়ারই দেখা মেলে। এ সময় তিনি কারও ফোন নম্বর কিংবা কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পুরো হাসপাতালটি ছিল জনমানবহীন ও ফাঁকা। প্রতিটি কক্ষই তালাবদ্ধ। সাধারণ বেডসহ কোথাও কোনো রোগী ছিল না।
রোববার দুপুরে পুরো হাসপাতালেই দায়িত্বশীল কর্মচারী-কর্মকর্তার কাউকে পাওয়া যায়নি কোনো টেবিল বা কক্ষে। এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় ঘোরাফেরাকালে অ্যাম্বুলেন্স চালক আবুল কালাম জানান, মেডিক্যাল অফিসার তাহমিনা আক্তার ও জিহাদুল হক জেলার বাইরে আছেন। তবে হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা বেশিরভাগ সময় বেসরকারি হাসপাতালের রোগী দেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন।
তাছাড়া কপারটির ক্ষেত্রে কোনো রোগীকে ২৫০ টাকা, ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা, স্থায়ী পদ্ধতির পুরুষের জন্য ১০০০ টাকা ও একটি লুঙ্গি এবং মহিলাদের জন্য ১০০০ টাকা ও একটি শাড়ি প্রদানের কথাও জানা নেই কোনো রোগীর। এদিকে, জন্ম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারিভাবে দেওয়া এক ডজন কনডম মাত্র এক টাকা ২০ পয়সার স্থলে এখানে কমপক্ষে ২০ টাকা রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়া এক প্রসূতির স্বজন অভিযোগ করেন, এখানে নিয়মিত ডাক্তার বলে কেউ থাকেন না। দুজন নার্স সুদীর্ঘকাল ধরে খাতাপত্রে কর্মচারী পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করলেও তারা কোনো রোগীর সেবায় কাজে আসেন না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে নিয়োগকৃত ডাক্তার ও কর্মচারীরা সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও বাস্তবে কোনো মা ও শিশুর কাজে আসছেন না তারা।
এলাকার জহির, আকবর, আলমগীর, নাছির, শিফিকা আক্তার, তুলিসহ অনেকেই জানান, এ হাসপাতালের দেয়ালে সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানের অঙ্গীকারে বিনামূল্যে ট্যাবলেটের তালিকায় ফেরাস সালফেট, বি কমপ্লেক্স, এলনেডাজল, এন্টাসিড, মেট্রোনিডাজল, ক্লোরফেনিরমিন, সালবুটামল, ডায়াজিপাম, কেট্রোইমক্সাজল, ড্রাইসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, রেনিটিডিন ও এমোক্সাসিলিন, কেট্রোইমক্সাজল, প্যারাসিটামল, ক্লোরামকেনিকল আই অয়েন্টমেন্ট, নিয়োমাইসন অয়েন্টমেন্ট, বি ডব লোশন, হুইটফিল্ড অয়েন্টমেন্ট প্রদানের কথা রয়েছে। কিন্তু সবই যেন কথার কথা। কিছুই দেওয়া হয় না। তবে বেগমগঞ্জের হাসান হাটের আবদুর রহিম জানান, কোনো গাইনি রোগী ভর্তি থাকলে সামান্য ভিটামিন ট্যাবলেট ও স্বল্পমূল্যের সিরাপ পাওয়া যায়।
এছাড়া সিটিজেন চার্টারে গর্ভবতী, গর্ভোত্তর, নবজাতক, স্বাভাবিক প্রসব, গর্ভপাতজনিত, যৌনবাহিত রোগ, সিজারিয়ান অপারেশন, পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক পরামর্শ প্রদান, কপারটি, সাধারণ রোগীর সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষামূলক সেবা, বয়ঃসন্ধিকালীন সেবাসহ নানা ধরনের সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর কোনোটি নেই এ হাসপাতালে।
কল্যাণ কেন্দ্রের এক পরিদর্শিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, সরকার কোনো ওষুধ-পথ্য না দিলে তারা রোগীদের কোথা থেকে দেবেন।
এ বিষয়ে জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক একেএম জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন কেন ডাক্তার নেই। একজন তো থাকার কথা। সেবার মান আগেও খারাপ ছিল। মান উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ..