সাক্ষাৎকার

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময়

‘ইনস্পায়ারিং অ্যাপ্লায়েড নলেজ’ স্লোগান নিয়ে ২০১৬ সালের জুনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ যাত্রা করে। আন্তর্জাতিক মানের ছাত্র তৈরি করা এ ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্য। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসহ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর নজরুল ইসলাম

শিক্ষকতা পেশার শুরুটা জানতে আগ্রহী…
নজরুল ইসলাম: কর্মজীবন শুরু করি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের প্রথম শিক্ষক ছিলাম। লেকচারার থেকেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম হেড। সে-ই শুরু। এরপর আমি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। যেমন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস স্কুলের ডিন ছিলাম। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ছিলাম।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে আপনার মিশন-ভিশন সম্পর্কে বলুন…
নজরুল ইসলাম: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন আমাকে নিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়, তখন আমি খোঁজ-খবর নিয়ে বুঝতে পারি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০০৪ সাল থেকে আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি ১৯৯১ সাল থেকে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পদ্ধতি ভিন্ন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে হলিস্টিক পয়েন্ট অব ভিউ থেকে কেউ যদি অ্যাড্রেস করতে পারে এবং তাকে যদি ট্রাস্টি বোর্ড সাপোর্ট দেয়, তাহলে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব। এর অন্যতম উদাহরণ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি এমন একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে এসব চর্চা সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে। এখানে অনেক হাইলি কোয়ালিফাইড ফ্যাকাল্টি মেম্বার রয়েছেন। বোর্ড মেম্বাররা খুবই হাম্বল। বাংলাদেশে ১০০টির বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু আপনি যদি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেন, তাহলে পাঁচ থেকে ছয়টি বা সর্বোচ্চ ১০টির বেশি পাবেন না। কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় বা উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে পড়ালেখা করলে দেশে-বিদেশে চাকরি পাওয়া যাবে। আউটকাম বেজড লার্নিং বা টিউটরিয়াল বেজড লার্নিং রয়েছে এখানে। আগামী ১০ বছর এর হাল ধরে রাখতে পারলে কিংবা আমরা যদি আমাদের ভিশন নিয়ে কাজ করি, তাহলে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিকেও ছাড়িয়ে যাব।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র রয়েছে কিন্তু অনেকে বলেন, মান ভালো নয়। এর

কারণ কি বা এখান থেকে বের হয়ে আসার উপায় কী?
নজরুল ইসলাম: আপনি একটি ভালো প্রশ্ন করেছেন। এটা লোকমুখের কথা। এক সময় ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে শোনা যেত পিএইচডি কিনতে পাওয়া যায়। এখন আর কেউ তা বলে না। বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা খুব বেশিদিনের নয়। মাত্র ৩০ বছর পর এ কথা আর কেউ বলবে না। তবে দুর্বল গভর্নেন্সও একটি কারণ। দেশে নতুন কোনো সেক্টর তৈরি হলে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে এবং এর ডিমান্ড হাই থাকে। তখন কিছু অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ কিছু রোল প্লে করে। এটি বন্ধের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আমি মনে করি, এটি বন্ধে দরকার গুড গভর্নেন্স।

ইউজিসি কেমন ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
নজরুল ইসলাম: বাংলাদেশে ছাত্রদের একটি চাপ আছে। আট লাখেরও বেশি ছাত্র প্রতিবছর এইচএসসি পাস করে। এর মধ্যে ছয় লাখ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১৯ কলেজে ভর্তি হয়। ৯০ হাজার ভর্তি হয় বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২৪ হাজার ছাত্র বিদেশে যায়। এক লাখ ছাত্র পড়ার সুযোগ পায় না। এটি চিন্তা করলে আরও বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। তবে সরকার বা ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রেগুলার মনিটরিং করতে হবে।

প্রাইমারি সেক্টরটি আমরা কীভাবে উন্নত করতে পারি?
নজরুল ইসলাম: প্রাইমারি সেক্টরটি ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে সরকারি প্রচেষ্টার কোনো কমতি নেই। তারপরও উন্নত হচ্ছে না। আমরা ভালো মানের ছাত্র পাচ্ছি না। দেখবেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রপ আউট ৩০ শতাংশ। মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের মান যদি আমরা বাড়াতে পারি, তবে এই ড্রপ আউট রেট অনেক কমে যাবে। আমার মনে হয়, সিস্টেমটাই এখনও ডিজাইন করতে পারিনি, যে সিস্টেম আমরা চাই। যে সিস্টেম হলে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চটা দিতে পারবে, একইভাবে অর্গানাইজেশন তার সর্বোচ্চটা দিতে পারবে এবং জাতীয়ভাবেও সর্বোচ্চটা দিতে পারবে। তবে চেষ্টা করতে হবে আমাদের।

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ থেকে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে, এর কারণ…
নজরুল ইসলাম: কোনো দেশ কিন্তু কম্পারেবল নয়, এটি আমার অভিমত। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি বিভিন্ন রকম। দেশের সংস্কৃতি বা প্রথা দ্বারা সিস্টেম ডিজাইন করতে হবে। ডিজাইনটি যেন টেকসই হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের যে দুর্বলতা আছে, সিস্টেম ঠিক হলে তার অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ছাত্রদের জন্য আপনি দীর্ঘমেয়াদি কি পরিকল্পনা নিয়েছেন বা করেছেন?
নজরুল ইসলাম: আমাদের ছাত্রদের গ্লোবাল সিটিজেন করতে হবে। কারণ, আমরা একটি গ্লোবাল ভিলেজে বাস করি। আমি যদি ছাত্রদের গ্লোবালি স্ট্যান্ডার্ড করতে পারি, তাহলে ছাত্ররা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি
সিনিয়র ছাত্রদের রিসার্চের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। ইন্টারন্যাশনাল একটি এটাচমেন্ট তৈরি করে তাদের
ইন্টারন্যাশনালি কানেক্ট করতে চাই। এটি সম্ভব। এটি শুধু উৎসাহের ব্যাপার। আমি এ কাজটি করতে চাইছি। আমরা এটি শুরু করেছি বিজনেস স্কুল থেকে। অন্যান্য ডিপার্টমেন্টেও এটি সম্ভব।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
নজরুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সর্বশেষ..