সারা বাংলা

কাপ্তাই হ্রদ শুকিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙামাটি: কাপ্তাই হ্রদ শুকিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির ছয় উপজেলায় নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে ওইসব উপজেলার বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, নারিয়ারচর, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে। আর ওইসব উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো লঞ্চ বা বোট (ইঞ্জিনচালিত নৌকা)। প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে ওইসব এলাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকার সঙ্গে নদীপথে কয়েক মাস জেলা সদরের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে স্থানীয়দের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এবারও কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় উপজেলাগুলোর বাসিন্দাদের এখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তাদের কষ্টের শেষ নেই। তারা এখন জেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করছেন ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট ও ভাড়ায় চালিত স্পিডবোট দিয়ে।
নদীর তলদেশ ভরাট, অবৈধভাবে হ্রদের পার দখল এবং ড্রেজিং না করায় প্রতি গ্রীষ্ম মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে হ্রদ এলাকা বিলে পরিণত হয়। বিশেষ করে এ বছর বেশি পানি শুকানোয় হ্রদ-তীরবর্তী এলাকায় বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
লংগদু উপজেলার মো. আলমগীর জানান, তাদের যোগাযোগের অন্যতম বাহন লঞ্চ। হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীতে লঞ্চ চলাচলে বিঘœ ঘটছে। উচ্চবিত্ত যাত্রীরা স্পিটবোটে যোগাযোগ করতে পারলেও তা ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে তা সম্ভব নয়।
বরকল উপজেলার আরিফ হাসান জানান, পুরো হ্রদ এখন মরভূমিতে পরিণত হয়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে এ উপজেলার।
বাঘাইছড়ি উপজেলার মো. নাছের জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তাদের পুরো উপজেলায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যে কারণে আমাদের প্রতি মুহূর্তে বিপদে পড়তে হচ্ছে। তিনি জানান, তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা লঞ্চ। প্রত্যেক বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে নাব্য সংকট দেখা দেয়। কিন্তু এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। হ্রদের চিহ্নিত জায়গাগুলো শনাক্ত করে সেসব স্থানে জরুরিভাবে ড্রেজিং করা দরকার। হ্রদে ড্রেজিং করা হলে দু’দিকে লাভ হবে। একদিকে হ্রদ নাব্য ফিরে পাবে, অন্যদিকে মাছের উৎপাদন বাড়বে বহুগুণে। যাতায়াতে কোনো বিঘœ ঘটবে না।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা ললিত চাকমা জানান, কাপ্তাই হ্রদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা জরুরি। এছাড়া হ্রদে দূষণ বাড়ছে দিনদিন। কাপ্তাই হ্রদে প্রতিদিন ব্যাপক হারে বর্জ্য, পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দিন দিন ভরাট হচ্ছে।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, লঞ্চ মালিকরা বারবার বাংলাদেশ নৌ-অভ্যন্তরীণ অধিদফতরকে লেক ড্রেজিং করার ব্যাপারে চিঠি লিখেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকেও একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো গতি দেখা যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশিদ জানান, কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং করার ব্যাপারে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিগগিরই ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হতে পারে।
তিনি আরও জানান, কাপ্তাই হ্রদ সম্পর্কে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এই হ্রদ এলাকার মানুষের সম্পদ। তাই এই সম্পদকে টিকিয়ে রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব। সবাই একটু সচেতন হলে হ্রদের দূষণ ও হ্রদের নাব্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সর্বশেষ..