মার্কেটওয়াচ

কারসাজিকারীদের বিচার না করলে বাজার ঠিক করা যাবে না

পুঁজিবাজারে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কারসাজিকারীদের সঠিকভাবে বিচার করা। তাদের বিচার না করে ১৬ কোটি মানুষের জন্য অসংখ্য আইন করলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে না। যতই প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক না কেন এই দুষ্টচক্র যেভাবেই হোক বাজার থেকে টাকা তুলে সরিয়ে ফেলবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
মোশতাক আহমেদ সাদেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাইফ ইসলাম দিলাল, প্ুঁজিবাজার বিশ্লেষক মাহমুদ হোসেন এফসিএ এবং কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এএম মাসুম।
সাইফ ইসলাম দিলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাজারের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ এবং বাজেটে প্রণোদনার আশ্বাস দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে না। প্রতিদিনই বাজারে পতন হচ্ছে এবং চার মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। আসলে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে বাজারধস হয়েছিল। ধসের একমাত্র কারণ ছিল বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও কারসাজি। ওই ধরনের অনিয়ম থেকে বাজার এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি বা তেমন উন্নতি করতে পারেনি। বিনিয়োগকারীদের সুবিধা বা তেমন সুরক্ষা দিতে পারেনি। আবার যারা কারসাজিতে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না। বাজার ভালো করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায় এবং সুরক্ষা দেওয়া যায়। শুধু কথা বলার সুরক্ষা নয় বা দু-একটি আইন পরিবর্তন করে বাজার ভালো করা যাবে না। সম্পূর্ণ বিনিয়োগনির্ভর আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পান।
মাহমুদ হোসেন বলেন, সম্প্রতি প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমলোচনা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটি এখন সিডিবিএলে ব্লক করে রাখা হবে। এটি বন্ধ রাখা বিনিয়োগকারীদের অনেক দিনের দাবি ছিল। স্পন্সররা ইচ্ছা করলেই এখন আর শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না। বিক্রি করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে করতে হবে। কারণ ওই কোম্পানিগুলো যে উদ্দেশ্যে জনগণের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছে, সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলছে। এর ফলে ডিএসই কোম্পানিগুলোকে জেড ক্যাটেগরিতে বা তালিকাচ্যুত করে দায়িত্ব শেষ করত। এতে ওই কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন যদি এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বাজার কিছুটা ইতিবাচক হবে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কারসাজিকারীদের সঠিকভাবে বিচার না করে এক হাজার, পাঁচ কোটি বা ১৬ কোটি মানুষের জন্য অসংখ্য আইন করলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে নাÑযতই প্রণোদনার ব্যবস্থা করুক না কেন। অর্থাৎ বাজার থেকে দুষ্টচক্র টাকা তুলে সরিয়ে ফেলবে।
এএম মাসুম বলেন, প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আইনগত কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। এখন স্পন্সররা তাদের ইচ্ছামতো প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না। এটি আসলে বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ এবং কোম্পানির স্পন্সররা। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পন্সরদের, এটা তাদের মূল দায়িত্ব। অর্থাৎ যখন কোনো কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন ওই কোম্পানিগুলো যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেটি সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিশেষ করে যে উদ্দেশ্যে অর্থ উত্তোলন করছে, সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা, লাভ-লোকসান, অডিট এবং লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। কিন্তু এটি আসলে দেখা যাচ্ছে না। তাহলে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে বাজারে আস্থা ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, এখন কাউকে দোষারোপ না করে বাজার ভালো করার জন্য মানি এবং ক্যাপিটাল মার্কেট অর্থাৎ যারা দায়িত্বে রয়েছে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার এবং ব্রোকারেজ হাউজ প্রভৃতি সবাইকে একসঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। তাহলেই বাজার ভালোর দিকে যাবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..