কার্যকর ভূমিকা রাখুক ৯৯৯

ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ‘৯৯৯’ নম্বরের সম্প্রসারিত ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর উদ্বোধন করেন। খবরটি ইতিবাচক। অতীতে ৯৯৯ নম্বরে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জরুরি পুলিশি সেবা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সেবার জন্য এ ধরনের কোনো শর্ট নম্বর ছিল না। সেসবের জন্য আলাদা ল্যান্ড লাইন বা মোবাইল নম্বরের ওপর নির্ভর করতে হতো। ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জরুরি পুলিশি সেবা লাভের বিষয়টিও ছিল না জনপ্রিয়। উন্নত দেশের মতো এ ধরনের জাতীয় হেল্পলাইন এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, একটি নম্বরে কল করেই এখানে তিন ধরনের জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নম্বরটি মনে রাখাও সহজ। এটি সম্পূর্ণ টোল ফ্রি। ফোনে ব্যালান্স না থাকলেও দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে এতে কল দিয়ে জরুরি সেবা পাওয়া যাবে। গতকাল এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক সেবা  প্রদানের মাধ্যমে আশানুরূপ সাড়া পাওয়ার খবর জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময়ে ২৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬৪টি কল নাকি এসেছে ৯৯৯ নম্বরে।

জাতীয় হেল্পলাইন জরুরি নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে, তেমন প্রত্যাশাই আমরা করব। এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা কতটা কার্যকর উপায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ সেবার তথ্য পৌঁছানো আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এ হেল্পলাইন একসঙ্গে ১২০টি কল গ্রহণ করে সেবা দিতে সক্ষম। বাস্তবে সারাদেশে জরুরি সেবার জন্য আরও বেশি কল আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কলগুলো ওয়েটিংয়ে থাকলে জরুরি সময় নষ্ট হবে। কল গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোয় সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন, এমনটা আশা করা যায়। সুখবর হলো, ৯৯৯ সেবার অধীনে শুধু ফোনকল সুবিধা নয়, রয়েছে বিশাল তথ্যভাণ্ডার সংবলিত মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট; যার মাধ্যমে জরুরি মুহূর্তে সেবা নেওয়া সম্ভব হবে। এ  প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সঙ্গে চ্যাটিংয়ের পাশাপাশি নিকটস্থ থানা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, হাসপাতাল প্রভৃতির লোকেশন ও ফোন নম্বর দেখতে পাওয়া যাবে।

সরকারি বিভিন্ন সেবার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় হেল্পলাইনের সেবাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে; তবে সীমিত আকারে। সারা দেশের মানুষ যখন এর ব্যবহার শুরু করবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়বে। সে অবস্থায় অন্যান্য সরকারি সেবার মতো এটিও যদি কাক্সিক্ষত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সময়োপযোগী উদ্যোগটির মূল উদ্দেশ্যই হবে ব্যাহত। আমরা আশা করব, জরুরি মুহূর্তে নাগরিকরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে কাক্সিক্ষত সেবাটি দ্রুত লাভ করবেন। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমের কোনো অদক্ষতা বা ত্রুটি থাকলে সেটিও দূর করা হবে দ্রুত। আমাদের আশা, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষিত করা হবে সেভাবেই, যেন তারা যথেষ্ট পেশাদারির পরিচয় দিতে পারেন।