সারা বাংলা

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সেবা

মেহেদি হাসান শুভ, মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যেও রয়েছে আতঙ্ক। সব সময়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে হয় সবাইকে। কারণ ভবনটির প্রতিটা কক্ষেই পলেস্তারা, ইট-বালু, সুরকি খসে খসে পড়ছে।
জানা যায়, কালকিনি উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। পরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০১ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, দোতলা ভবনবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। আর গড়ে দৈনিক ভর্তি হয় ৪৫ জন। এখানে পুরুষ ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ২০টি শয্যা রয়েছে। এছাড়া রয়েছে আরও ৩০টি কক্ষ। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ভবনটি সংস্কার করা হয়। এরপর প্রতি বছর বরাদ্দ থেকে ভবনটির বিভিন্ন অংশ সংস্কার করা হলেও কাক্সিক্ষত সমাধান আসছে না। সংস্কার করার কয়েক মাসের মধ্যেই পলেস্তারা, ইট-বালু, সুরকি খসে খসে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ভবনটি প্রতিটি কক্ষই এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিন দেখা যায়, ভবনটির বাইরের অবস্থা ভালোই। কিন্তু ভেতরে ঢুকে চোখ উপরে তুলতেই দেখা গেল ইট-বালু, সুরকি খসে পড়া একটি অংশ। যেন ভবনটি ১০০ মিটারের একটি অংশ ভেঙে পড়ে গর্তের সৃষ্টি। ভবনটি নিচ তলায় ডান পাশের শেষ কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলবিধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তার কক্ষের ভেতরে ছাদের বড় বড় দুটি অংশ ভেঙে পড়েছে। এছাড়া ভবনের অন্তত ১৫টি স্থানে এমন ভেঙে পড়ার দৃশ্য চোখে পড়বে। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। কোথাও খসে পড়েছে পলেস্তারা। দরজা-জানালার বেহাল দশা। টয়লেটের অবস্থা শোচনীয়। ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেটেই ব্যবহার করছেন রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরো ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
হাসপাতলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মাসুদা খাতুন জানান, তার মাথার উপরে তাকালে ভয় করে। তিনি উপরে তাকিয়ে তার ডান হাত তুলে ভাঙা অংশ দেখিয়ে বললেন, এভাবে কি ঝুঁকি নিয়ে থাকা যায়? ইট-বালু খসে পড়ে আমাদের বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে সরকার কি এসব ঠিক করতে পারে না?
সাহেবরামপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কামরুল বেপারি জানান, জীবন বাঁচাতে এবং সুস্থ হওয়ার জন্যই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে আসি। কিন্তু ভবনের যে ভয়াবহ অবস্থা, এতে করে কখন যে ভেঙে পড়ে জীবন বিপন্ন কিংবা পঙ্গত্ববরণ করতে হয়।
হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খায়রুল আলম জানান, এই হাসপাতালে সবকিছু মিলিয়ে ৩৫টি কক্ষ আছে। প্রতিটি কক্ষেই ভাঙন আছে, নয়তো ফাটল আছে। তাদের রোজ আশঙ্কা নিয়ে ডিউটি পালন করতে হয়। কয়েকদিন আগে চোখের সামনে ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ল। ভাগ্য ভালো যে, কেউ হতাহত হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলবিধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। তারা এ ভবনটি সংস্কার নয়, নতুন করে নির্মাণের জন্যও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে এই ভবনটি শেষ বারের মতো সংস্কার করা হয়। এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভবনটি নাজুক অবস্থা। কারণ এ ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সংস্কার করে কোনো লাভ হচ্ছে না।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ফরিদ হোসেন মিঞা জানান, কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতি বছরই সংস্কার করা হয়। কিন্তু সব স্থানে সংস্কার করা হয় না, তাই পুনরায় ভাঙন ও ফাটল দেখা যায়। সংস্কার চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। এবার বাজেটেই হাসপাতালটি পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হবে। তিনি নিজে হাসপাতালটি পরিদর্শনও করেছেন। হাসপাতালটি বসবাসের অযোগ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ বলে কোনো ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */