কালিয়ায় গলদা চিংড়ি চাষ ব্যাহত

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, নড়াইল: নড়াইলের কালিয়ায় চিংড়ির স্বাভাবিক চাষ ব্যাহত হয়েছে। চাষিদের ক্রয়কৃত রেণু ভালো না হওয়ায় চিংড়ির স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি বলে মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফলে উপজেলার প্রায় ৮০০ গলদা চিংড়ি চাষি মূলধনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোকসান গুনছেন।

একাধিক মৎস্য চাষি জানান, উপজেলায় কোনো মাছের হ্যাচারি না থাকায় চিংড়ির রেণু কিনতে হয় বরিশাল ও ভোলা থেকে। ফলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আনা রেণুর ১০-২০ শতাংশ মারা যায় প্রতি বছর। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর  বেশি পরিমাণে চিংড়ির রেণু মারা গেছে। চাষিদের ধারণা ক্রয়কৃত রেণুর ৭৫ শতাংশ মারা গেছে। তারপরও যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে তারও দাম কম। অর্থাৎ প্রতি কেজি মাঝারি গ্রেডের চিংড়ি ৫০০-৬০০ টাকা এবং ছোট গ্রেডের চিংড়ি ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে একাধিক চাষি অভিযোগ করেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা চাষিদের কোনো খোঁজখবর নেন না। অফিসে গিয়ে তাকে প্রায়ই পাওয়া যায় না। পেলেও ভালো কোনো পরামর্শ দেন না তিনি। মাছের ঘের পরিদর্শনেও যান না তিনি।

উপজেলার চাঁচুড়ি গ্রামের তমজিদ বিশ্বাস জানান, তিনি দুটি ঘেরে দেড় লাখ রেণু ছেড়েছিলেন। এ পর্যন্ত মাত্র ৪০-৪৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। এ বছর মাছের বৃদ্ধিও কম। তাই এক কেজিতে উঠছে ২০-৩০টি চিংড়ি। অথচ এক কেজিতে আট থেকে ১৫টি চিংড়ি ওঠার কথা। এছাড়া বেশি দামে খাদ্য কিনে কম দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হবে। আর উপজেলার চিংড়ি চাষিরা এ বছর কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

কৃষ্ণপুর গ্রামের রেণু ব্যবসায়ী মদন বিশ্বাস জানান, রেণুতে কোনো সমস্যা ছিল না। আসলে এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে মাছের বৃদ্ধি ভালো হয়নি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিব রায় জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। চাষিদের তারা সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বৃষ্টির কারণে মাছের বৃদ্ধি না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অনেক ঘেরের রেণু মারা গেছে। এছাড়া বর্তমানে বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদাও কম। তাই দরপতন হয়েছে।