কাশফুল আর পানবরজ ব্যবসার দুই অনুষঙ্গ

কাশফুলের শুভ্রতা বিমোহিত করে আমাদের। এর সঙ্গেও যে ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। আর পান? পান একটি অর্থকরী ফসল। পান ও কাশফুল এ দুইয়ের সমন্বয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে রাজশাহীর মোহনপুর ও দুর্গাপুরসহ কয়েকটি উপজেলায়।
অতিথি আপ্যায়নে পানের ব্যবহার আবহমানকাল থেকে বাংলায় বেশ জনপ্রিয়। তবে পান চাষ খুবই স্পর্শকাতর অর্থকরী ফসল। কেননা অন্য ফসলের তুলনায় এর বাড়তি যত্নের প্রয়োজন পড়ে। পানবরজের (পান চাষের বাগান) প্রয়োজনীয় উপকরণ হলো কাশফুলের গাছ। এটা ছাড়া পানবরজ সঠিকভাবে নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় পানের চাষ হয়; তবে মোহনপুর ও কেশরহাটে এর উৎপাদন বেশি। বাজারটাও বেশ বড়। পানবরজ নির্মাণে বাঁশের যেমন ব্যবহার হয়, তেমনি পাটকাঠিও। এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কাশফুলের গাছ। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মার পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয় এ কাঁশফুল। প্রতিবছর বর্ষাকালে এর বৃদ্ধি শুরু হয়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এটি পরিপূর্ণতা পায়। মূলত এ সময় গাছটি কাটা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসার মৌসুম বলে জানান কাশফুল গাছের ব্যবসায়ীরা।
কথা হয় কাশফুল ব্যবসায়ী ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, কার্তিক-অগ্রহায়ণ এ দুই মাসে এর ব্যবসা হয়। তিনি ছাড়াও মোহনপুরের শ্যামপুরহাটের অনেকেই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই গাছ তারা পদ্মার পাড় থেকে পাইকারি দরে কিনে আনেন। পরে সেগুলো বাছাই-কাটাই করে পানবরজ মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। এ গাছের গোছা ‘আঁটি’ নামে পরিচিত। এই গোছার পাইকারি দর ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা। তারা বিক্রি করে থাকেন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এর মধ্যে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে গোছাপ্রতি আট থেকে ১০ টাকা লাভ থাকে।
ইসরাফিল জানান, যেহেতু বছরের মাত্র দুই মাস এর ব্যবসার মৌসুম, সেহেতু লাখপ্রতি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা মুনাফা আসে। তবে এর সঙ্গে অনেক শ্রমিক যুক্ত থাকেন। সব ধরনের খরচ বাদে এ ব্যবসা বেশ লাভজনক বলে জানালেন তিনি।
পানবরজের মালিক সোহেল জানান, পান চাষের জন্য বরজের সঠিক নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বরজ নির্মাণ করা না হলে পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যেতে পারে, লগ্নিকৃত অর্থের পুরোটাই পানিতে যেতে পারে। কারণ এক বিঘা পানবরজের জন্য প্রায় লাখ টাকার মতো খরচ হয়ে থাকে। এজন্য পান চাষ খুবই যত্নসহকারে করতে হয়। বরজের ছাদ ও এর বেড়া নির্মাণের সর্বোৎকৃষ্ট উপাদান হলো কাশফুলের গাছ। ধানের খড় কিংবা পাটকাঠি দিয়েও তা করা সম্ভব; কিন্তু ফলন ভালো হয় না।
এ অঞ্চলের অনেকে ব্যবসাটি করে থাকেন। প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যবসা হয় কাশফুল গাছের মাধ্যমে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা দেব দুলাল ঢালী জানান, বিষয়টি আমরা জানি। আমরা ব্যবসায়ী ও কৃষক উভয়ের আর্থিক উন্নতির জন্য কাজ করছি।

আসাদুজ্জামান রাসেল