কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন হবে কবে?

পাঠকের চিঠি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের ছবি দেখে কেমন যেন শূন্য ও পরিপূর্ণহীন লাগছে নিজেকে। আবার যারা অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের ফেসবুক টাইমলাইনেও দেখা যায় সমাবর্তনের আকাক্সক্ষার স্ট্যাটাস। তারা চাচ্ছেন সমাবর্তন হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া। শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থী গায়ে কালো গাউন, মাথায় সমাবর্তনের ক্যাপ পরে আচার্যের হাত থেকে সনদ গ্রহণ করবেন, এটাই স্বাভাবিক।
২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ১২টি বছর পার হতে চলেছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও সমাবর্তনের (প্রথম) আয়োজন করতে পারেনি। সবকটি বিভাগ মিলিয়ে প্রথম সাতটি ব্যাচের প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে গেলেও তারা কেউই সমাবর্তনের মুখ দেখেননি! অথচ সমাবর্তন ছাড়াই প্রতিবছর হাজার গ্র্যাজুয়েটকে সাময়িক সনদ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হচ্ছে। সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় শক্তি জোগায়, উজ্জীবিত করে। সমাবর্তনে পড়ালেখা শেষ করা শিক্ষার্থীরা শুধু সনদপত্র গ্রহণ করেন, তা নয়; সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত করার প্রেরণা দিয়ে থাকে, যা তারা কর্মজীবনে প্রয়োগ করে থাকেন। বাংলাদেশের প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বা একাধিক সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাবির ৫১তম সমাবর্তন এ বছর হচ্ছে। রাবিও করেছে কিছুদিন আগে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে বা কাছাকাছি সময়ে প্রতিষ্ঠিত এমন বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বা একাধিকবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে সমাবর্তন আয়োজন করা খুব কঠিন কাজ নয়! কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত হবে সমাবর্তনের অয়োজন করা। শিক্ষার্থীদের সম্মান ও সমাবর্তনের মতো আনন্দের ব্যবস্থা করুন, দিন তাদের সম্মানজনক স্বীকৃতি।

শতাব্দী জুবায়ের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়