সুশিক্ষা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নবীনদের পদচারণে মুখর

জ্ঞানচর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়। বিদ্যাশিক্ষার প্রাণকেন্দ্রও বলা যায়। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সিঁড়ি এটি। একঝাঁক স্বপ্ন নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমন স্বপ্ন পূরণের সারথি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। কুমিল্লার বিশাল লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি অংশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
‘নবীনরা আসছে, ছেড়ে দাও স্থান। আপন প্রাণে জায়গা করে দাও।’ এমনই অনুভূতি সদ্য সিনিয়র হওয়া ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে নতুন ব্যাচ। নবীন ব্যাচের পথচলায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র। তাদের আড্ডা, গান, ক্লাস ও পড়াশোনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে ক্যাম্পাস।
প্রতি বছরের মতো ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১৯টি বিভাগে প্রায় এক হাজার ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে নবীন শিক্ষার্থীদের পথচলা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তারা।
নবীনদের আগমনে ক্যাম্পাস যেন পূর্ণতা পেয়েছে। তাদের পদচারণে মুখর বিশ্ববিদ্যালয়। আড্ডাস্থলগুলো গমগম করছে। ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা থেকে শুরু করে বাবুই চত্বর, স্যানসেট ভ্যালি, শহীদ মিনার, মুক্তমঞ্চ ও ক্যাফেটেরিয়ায় বসে তুমুল আড্ডা। লালনগীতি ও হারিয়ে যাওয়া পুরোনো গান যেন সুরে সুরে নতুন প্রাণ পায়। আড্ডা শেষে কবির মামার এক কাপ চা যেন তাদের আরও ফুরফুরে করে তোলে। শিক্ষার্থীদের আড্ডায় ক্যাম্পাসে শুরু হয় প্রাণের স্পন্দন। লেখাপড়া আর আড্ডার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সৌন্দর্য ঘুরে দেখতেও ভুল করেন না নবাগত শিক্ষার্থীরা।
অর্থনীতি বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, পরিশ্রমের কারণে এখানে ভর্তি হতে পেরেছি। একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা। নতুন পরিবেশে অচেনা মানুষদের ভিড়ে নিজের পরিচয়টা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করব।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আকিল রায়হান বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসটা ছোট। এ ছোট পরিসরে নিজেদের একটা পরিচয় গড়ে তুলব আমরা। নতুন বন্ধু আর ভিন্ন পরিবেশ পেয়ে অনেক মজা করছি। আশা করি সামনের দিনগুলোও ভালো কাটবে।
নবীনদের আগমন, প্রবীণদের বিদায়। প্রকৃতি সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তুলছে। লালপাহাড়ের ক্যাম্পাসে আসা সবাই নতুন স্বপ্ন দেখছেন। একদল বাস্তবায়ন করে গেছেন। আরেকদল বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন।

আশহাদুজ্জামান শাহেদ

সর্বশেষ..