কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংস্কার না করায় দুর্ভোগ চরমে

মামশাদ কবীর, কুমিল্লা: দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও ভাঙাচোরা স্থানে যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে সৃষ্ট হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। মাঝেমধ্যে ইট দিয়ে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ কমছে না।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটির কুমিল্লা অংশে রয়েছে প্রায় ৪২ কিলোমিটার অংশ। কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস থেকে কালামুড়া পর্যন্ত এ ৪২ কিলোমিটার সড়কটির প্রতিটি জায়গাজুড়ে খানাখন্দক। ব্যস্ততম সড়কটির কুমিল্লা অংশে পড়েছে কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অংশ বিশেষ। এসব উপজেলার সদরের ময়নামতি সেনানিবাস, বুড়িচংয়ের ফরিজপুর, রামপাল, সাহেবের বাজার, তুতবাগান, হরিণধরা, শরীফপুর, দেবপুর, রামপুর, পারুয়ারা, কংশনগর, দেবীদ্বারের বারেরা, কণ্ঠনগর, জাফরগঞ্জ, ভিরেল্লা, চরবাকর, কোরেরপাড়, ভিংলাবাড়ি, সাইলচর, চাঁপানগর, দেবীদ্বার নিউমার্কেট, দেবীদ্বার থানা এলাকা, মুরাদনগরের কোম্পানিগঞ্জ, ব্রাহ্মণপাড়ার মীরপুরসহ আরও বেশকিছু স্থানের সড়ক ব্যবহারের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও বা বড় বড় গর্ত কোথাও পিচ উঠে আবার কোথাও ছোট ছোট অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
অথচ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে কুমিল্লা ছাড়াও চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে যাতায়াতের একমাত্র ও প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে এ সড়ক পথে। এর বাইরে কুমিল্লা ও বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে চালু থাকা একাধিক গ্যাসফিল্ডের ভারী যন্ত্রপাতি ও নদীপথে ভারত থেকে আশুগঞ্জ হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি এ সড়ক পথেই নেওয়া হচ্ছে।
তবে সড়কটির গত এক বছরে নামমাত্র ইট দিয়ে খানা-খন্দক ভরাট ছাড়া আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। এতে এই সড়কে চলাচলকারী অসংখ্য মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কখনো কখনো ভাঙাচোরা রাস্তায় যানবাহন উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। কখনও যানবাহন বিকল হয়ে সৃষ্ট হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। মাঝেমধ্যে ইট দিয়ে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ কমছে না।
সরজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে প্রায় পুরো বছর ধরেই চলে সংস্কার। কোথাও কোথাও সংস্কারের স্বল্প সময়ের মধ্যে আবারও ফিরে যাচ্ছে পূর্বের অবস্থায়। আর এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের কবলে পড়ছে যানবাহনের যাত্রীরা।
বুড়িচং এলাকার ফরিজপুর গ্রামের হাবিব, রামপাল গ্রামের কালা মিয়া জানান, ময়নামতি সেনানিবাস থেকে সাহেবের বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বছরে কমপক্ষে ১০/১২ বার সংস্কার হলেও অবস্থার উন্নতি নেই। ময়নামতি হরিণধরা এলাকায় অনেক সময় স্থানীয় গ্রামবাসী ইট ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখছেন।
মহাসড়কের দেবিদ্বার এলাকার আমির হোসেন জানান, পাথরের তৈরি সড়কটির খানাখন্দক বছরজুড়ে ইট দিয়ে ভরাট করায় ভারী যানবাহনের চাপে সেটা স্বাভাবিক থাকছে না।
কুমিল্লা-সিলেট রুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের একাধিক চালক জানান, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত ৫০ মাইল এলাকা অতিক্রমে যেখানে দেড় ঘণ্টা লাগতো, সেখানে সড়কটির দুরবস্থার কারণে চার ঘণ্টায়ও সে পথ অতিক্রম করা যাচ্ছে না। সড়কটি ভাঙাচোরার কারণে প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে যাচ্ছে বা দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে। এতে মহাসড়কটিতে প্রায়শই যানজট সৃষ্ট হচ্ছে। মাইলের পর মাইল সৃষ্ট যানজটের কবলে পড়ে হাজার হাজার যাত্রীকে অবর্ণনীয় কষ্টের মুখে পড়তে হয়।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার জানান, সংস্কার কাজ চলছে। বৃষ্টির জন্য মাঝে মাঝে কাজের বিঘ্ন হচ্ছে। আগামী ১০-১৫ দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রাস্তার কাজ শেষ হয়ে যাবে। অনেক স্থানে ওভার লে করা হচ্ছে। তাছাড়া তিনি ঠিকাদারদের বলেছেন, ইটের পরিবর্তে পাথরের ব্যবহার করতে।