কুষ্টিয়ায় ৫৫০০ হেক্টরে শীতকালীন সবজি চাষ

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া: শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুষ্টিয়ার চাষি। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবজির সমারোহ। এবার কুষ্টিয়ায় শীতকালীন সবজির মধ্যে টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, শিম, মুলা, পালংশাক, মিষ্টি কুমড়ো, বরবটি, করলা, শসা, ডাঁটাশাক, লালশাক, লাউ, গাজর, ওলকপিসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করেছেন কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ছয় হাজার ৬৭৫ হেক্টর। চাষ হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৮০ হেক্টরে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ৭৩৫ হেক্টর, খোকসায় ৩২৫ হেক্টর, কুমারখালীতে ৬১৩ হেক্টর, মিরপুরে ৫৭৩ হেক্টর, ভেড়ামারায় ৬৫০ হেক্টর এবং দৌলতপুর উপজেলায় এক হাজার ৫৮৪ হেক্টরে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। তবে মৌসুম শেষের আগে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার সেনাইডাঙ্গি এলাকার কৃষক জামিরুল ইসলাম জানান, এবার প্রায় দেড় বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। এ মৌসুমে অন্য সবজি চাষের তুলনায় শিম চাষে লাভ বেশি। কারণ এ সময় শিমের দাম বেশ চড়া থাকে।
দৌলতপুর উপজেলার শশীধরপুর গ্রামের সবজিচাষি মনিরুল ইসলাম জানান, এ বছর ছয় বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিন বিঘা জমির কপি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখনও তিন বিঘা জমিতে কপি রয়েছে। যা বিক্রি করে প্রায় সমপরিমাণ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। স্বরূপপুর গ্রামের সবজিচাষি আমিরুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। এখনও গাছে অনেক শিম রয়েছে। দুখীপুর গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী কাফিরুল ইসলাম জানান, সবজি ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে পাইকারি সবজি কিনে তা স্থানীয়ভাবে বাজারজাতকরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করেন।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সবজি চাষে ফলন ভালো হয়েছে এবং চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। সে সঙ্গে ভালো ফলনের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হয় চাষিদের।
জেলা কৃষি বিপণন অধিদফতরের বাজার কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির ফলন ভালো হাওয়ায় বাজারে সবজির প্রচুর আমদানি হয়েছে। যার ফলে বাজারে দাম এখন খুবই কম। সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা ভালো না থাকায় চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তবে তারা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির আবাদ ভালো হয়েছে। সে সঙ্গে কৃষকও ভালো ফলন পেয়েছেন। এছাড়া এবার বাজারে শীতের সবজির সরবরাহও বেশ ভালো। মৌসুমের শুরু থেকেই সবজিচাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।