দিনের খবর শেষ পাতা

কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, যা এর আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি এবং অর্জনের তুলনায় দুই দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি ও পল্লিঋণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান ২০১৯-২০ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিতরণের স্থিতি দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জন ছিল ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের কৃষি এবং পল্লিঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। লক্ষ্য তিনটি হলো দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি ও সুস্বাস্থ্য অর্জন। কৃষিঋণ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে এই লক্ষ্যগুলো পূরণ করা সম্ভব বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ১০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ১৩ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সবগুলো ব্যাংক মিলে ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৪ কৃষককে কৃষি ও পল্লিঋণ দিতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৬ লাখ এক হাজার ৮৫৬ নারী সাত হাজার ১৯০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ পেয়েছেন।
ওই অর্থবছরে ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৭ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৩২২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৯ হাজার ৯৫০ কৃষক প্রায় ৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ পেয়েছেন।
গত অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও আটটি ব্যাংক তাদের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, কিছু দুর্বল ব্যাংক ছাড়া সবগুলোই কৃষিঋণে অংশগ্রহণ করছে। কয়েকটি ব্যাংক দুর্বল অবস্থার কারণে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনা করছে।
জানা গেছে, কৃষি ও পল্লিঋণের সুদহার ৯ শতাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে। কৃষক ছাড়াও পোলট্রি শিল্প, দুগ্ধ উৎপাদন, কৃত্রিম প্রজনন ও কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে সহজ শর্তে এ ঋণ বিতরণ করা হয়।
ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকের কাছে কৃষিঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু সময়োপযোগী বিষয় সংযোজিত হয়েছে। এই নীতিমালার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে এমএফআই লিংকেজের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব শাখা এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশনা প্রদান, কাজুবাদাম চাষে ঋণ প্রদান, রাম্বুটান চাষে ঋণ প্রদান ও কচুরিপানার ডাবল বেড পদ্ধতিতে আলু চাষে ঋণ প্রদান।
এছাড়া এক টাকা হতে যে কোনো অঙ্কের সব বকেয়া শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবিতে (ঋণ তথ্য ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হলেও নতুন মঞ্জুরি বা নবায়নের জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না বলে জানান এসএম মনিরুজ্জামান।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..



/* ]]> */