সম্পাদকীয়

কৃষিঋণ বিতরণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অনীহা কাম্য নয়

আবহমানকাল থেকে এ উপমহাদেশের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই শিল্প ও সেবা খাতের অনেক সম্প্রসারণ হলেও কৃষি খাতের গুরুত্ব এখনও কমেনি। মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশেরও বেশি এখনও কৃষিতে নিয়োজিত। ছোট-বড় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মূলধন সংগ্রহের জন্য যেমন ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হয়, তেমনি কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত যন্ত্রপাতি কেনা ও যুগোপযোগী চাষ পদ্ধতি গ্রহণের জন্যও অর্থের প্রয়োজন। তবে দেশের বিশালসংখ্যক মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির হওয়ায় এ অর্থের সংস্থান তাদের জন্য কঠিন। সে আলোকে তারা ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে এ অর্থসংস্থানের চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছে তাদের প্রত্যাশাও বেশি। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো শিল্পসহ অন্য ঋণ বিতরণে জোর দিলেও কৃষিঋণ বিতরণে তাদের আগ্রহ কমছে বলে জানা গেছে, যা হতাশাজনক।
‘কৃষিঋণ বিতরণে আগ্রহ কমছে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের’ শিরোনামে গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৭ শতাংশ ও রূপালী ব্যাংক প্রায় ৯ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করতে পেরেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংক দুটি বেশ অনীহা দেখিয়েছে, যা কাম্য নয়। অথচ দেশের আর্থসামাজিক ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করি।
ঋণ বিতরণে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি হওয়ায় খেলাপির পরিমাণ বাড়ছে, ব্যাংক খাতও ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে মানুষের আস্থা কমছে ব্যাংকের প্রতি। এজন্য বড় ঋণই দায়ী। অথচ পরিশোধের দিক থেকে ছোট ঋণ এগিয়ে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কৃষিঋণের ভূমিকাও অনেকÑতা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার বড় খেলাপি ঋণগুলোর অধিকাংশের সঙ্গেই বড় প্রতিষ্ঠান জড়িত, যারা হয় প্রভাবশালী, নয়তো রাজনৈতিক বলে বলীয়ান। ছোট ঋণগ্রহীতারা নিয়মিত পরিশোধ করলেও তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে না। অথচ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণখেলাপি হয়েও নানা সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। এর অবসান হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।
কৃষি খাতের ওপর দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্ভরশীল। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানও কৃষিপণ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে কৃষি খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। কৃষির আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন জরুরি। এছাড়া কৃষি খাতের উন্নয়নে ও ঋণ বিতরণে অন্যান্য ব্যাংকও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

সর্বশেষ..