কেডিএস এক্সেসরিজের দর বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ

সাপ্তাহিক লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ১৩ লাখ চার হাজার টাকা। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১২৫ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ১০ টাকা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১১৭ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১১৭ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৬২৪টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৮৭৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২১ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ১১১ টাকা থেকে ১১৭ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর। এক বছরে শেয়ারদর ৫৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১১৭ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৭ সালের সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ২০ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৪ টাকা ৮০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসে পাঁচ শতাংশ নগদ ও ১০ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে চার টাকা এবং এনএভি ২৪ টাকা ৯৯ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী আয় ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৫৩ দশমিক ২৭ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ৪৭ দশমিক ২৬। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি ছয় লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট ছয় কোটি ৬০ হাজার শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ৯৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য আট শতাংশ শেয়ার।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যামবি ফার্মা লিমিটেড। গত সপ্তাহজুড়ে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন তিন কোটি ৫২ লাখ ২১ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৬১ লাখ ৯ হাজার টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির ৭৮ হাজার ১৫৭টি শেয়ার মোট এক হাজার ৩৭৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর পাঁচ কোটি ৭২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। শেয়ারদর সাত দশমিক ৪০ শতাংশ বা ৫২ টাকা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৭৬৪ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৭৫৭ টাকা ৬০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৬৯১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৬৫ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৩৬০ টাকা থেকে ৭৬৫ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাবছরের ৩০ শতাংশ নগদ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে তিন টাকা দুই পয়সা ও এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ২৪ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ তিন কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কোম্পানিটির ২৪ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৭৫ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক সাত দশমিক ১৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৫টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৯৫৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২২ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। শেয়ারদর পাঁচ দশমিক ৮৩ শতাংশ বা ১১ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২০৫ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২০৫ টাকা ৯০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৭৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০৯ টাকায় ওঠানামা করে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ২৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২০৯ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের ১০ শতাংশ বোনাস শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১১ পয়সা ও এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
৭৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ সাত কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট এক কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৬টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ১৬ শতাংশ, বিদেশি ছয় দশমিক ১২ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে বাকি ৫৭ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে এপেক্স ট্যানারি, আরামিট লিমিটেড, আইটি কনসালটেন্টস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, ইবনে সিনা, স্টাইলক্র্যাফট ও আমান ফিড লিমিটেড।