সম্পাদকীয়

কেনাকাটায় অর্থ দেশে রাখতে ব্যবসায়ীদের সততা কাম্য

ব্যবসা মাত্রই মুনাফা লাভের প্রচেষ্টা। মুনাফা না করলে সে ব্যবসা টিকে থাকে না। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীরা অতিমুনাফা করতে চান। বিক্রেতা যে পণ্যের দাম চার হাজার টাকা চান, দরদামে কৌশলী ক্রেতা তা হাজার টাকার কমে কিনতে পারেন। কিন্তু বিক্রেতার সঙ্গে পেরে ওঠা ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। আবার যে পণ্যের কেনা দাম দুই হাজার টাকা বলে দাবি করেন বিক্রেতা, সেটি দরদাম শেষে হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এভাবে কেনাকাটায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই প্রতারিত ও বিরক্ত হন। কখনও পণ্যের দামে, কখনও মানে। অপেক্ষাকৃত সামর্থ্যবানরা তাই দেশে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। বিদেশে পাড়ি জমান; বিশেষ করে ভারতে।
আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ভারত যান। এ সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ‘দেশের বাজারে তুলনামূলক ব্যয় বেশি: ঈদ ও বিয়ের কেনাকাটায় ভারতমুখী বাংলাদেশিরা’ বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
এতে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে গত বছর কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে গেছে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি। এতে ঈদে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারাচ্ছেন ঢাকার দোকান মালিকরা। ঢাকায় পোশাকের দাম অত্যধিক এবং ঈদের সময় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। অন্যদিকে দেশটির বাজারে মূল্য অপেক্ষাকৃত কম; রয়েছে ঈদের বিশেষ ছাড়-অফারও।
কেন ভারতমুখী হচ্ছেন ক্রেতারা! আসা-যাওয়ার খরচের পরও পোশাকের দাম কম এমন বক্তব্য ক্রেতাদের। ভ্রমণও হলো, ভালো পোশাকও কেনা গেল। অথচ আমাদের বিক্রেতারা ওই দেশের পোশাক এনে বাংলাদেশে বিক্রি করে দ্বিগুণেরও বেশি দামে। ভারতের বাজার থেকে কেনাকাটা করে ক্রেতারা সন্তুষ্ট। অনেকেই বলেন, ঈদের বাজেট থেকে টাকা কিছুটা বাঁচাতেও পেরেছেন। আর আমাদের ব্যবসায়ীরা ‘ডাকাতি’ করেন বলে ক্রেতাদের খেদ রয়েছে।
বিক্রেতার আচরণও একটি বড় প্রভাবক। ভারতে যে কোনো দোকানে কম দামি একটি পণ্য কিনলেও বিক্রেতা ১০০টি পণ্য দেখান। আর আমাদের দোকানিরা তিন-চারটা দেখিয়েই বিরক্ত হন। পোশাক পছন্দ না হলে ফিরে গেলে ক্রেতার উদ্দেশে তির্যক মন্তব্য তো আছেই।
আমাদের রাজধানীতে বিলাসবহুল শপিংমল বেড়ে চলেছে। অলিগলিতেও গড়ে উঠছে বিপণিবিতান। কিন্তু ক্রেতা সংকট। আর বাংলাদেশি ক্রেতাদের দ্বারা খরা কাটছে ভারতের ব্যবসায়ীদের।
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ভোক্তা যেখানে পণ্যের মান, দাম ও বিক্রেতার ব্যবহারে আকৃষ্ট হবেন; সেখানেই যাবেন। অর্থ ও সময় ব্যয় করে ক্রেতারা ভারত ছুটছেন, এর দায় আমাদের ব্যবসায়ীদের। অথচ নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে ক্রেতারা বিদেশ যেত না, দেশের টাকা দেশে থাকত। ব্যবসায়ীরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */