কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে গচ্ছিত স্বর্ণ নিয়ে গত কয়েকদিন বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ভল্টে গচ্ছিত স্বর্ণের মান ও পরিমাণ নিয়ে একটি সহযোগী দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অবশ্য এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তারপরও বিষয়টি সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, যদি কোনো গাফিলতি থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিষয়টি করণিক ভুল। ৮০ ও ৪০-এর ইংরেজি বিভ্রান্তি। কিন্তু ‘করণিক ভুল’ হলেও এটাকে তুচ্ছ করে দেখার কি অবকাশ রয়েছে? শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত স্বর্ণের একটি চাকতি ও রিং জমাদানকালে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে ব্যাংক গ্রহণ করে। কিন্তু পরীক্ষা করে চাকতিতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) এবং রিংয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট) স্বর্ণ পাওয়া যায়। এখানে করণিক ভুল হিসেবে ৮০-কে ৪০ লেখা হতে পারে। যদি তা-ই হয়, তবে তা ৪৬ দশমিক ৬৬ বা ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ হয় কীভাবে? অথবা ৪০-কে যদি ভুলে ৮০ লেখা হয়ে থাকে, তবে সেই ৪০ শতাংশ স্বর্ণ ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ হয় কীভাবে? ৪০ শতাংশ স্বর্ণের মান বেড়ে তো ৪৬ হওয়ার অবকাশ নেই। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বক্তব্য, ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যক্তিই স্বর্ণ পরীক্ষা করেন এবং তিনি যে মানের কথা বলেন, ডকুমেন্টে তা-ই লেখা হয়। স্বর্ণের ক্যারেটে তারতম্যের কারণে এক্ষেত্রে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা। শুধু এতটুকু স্বর্ণের ক্যারেটের তারতম্যেই এ ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে শত শত কেজি স্বর্ণের মানের পরিবর্তনে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। একটি কমিটি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয় এ বছরের জানুয়ারিতে। আর জানুয়ারিতেই মহাপরিচালক বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর পাঠান। এত দিনেও এটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হয়নি, যা অর্থ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। লক্ষণীয়, সরকারের দু’টি সংস্থার বক্তব্যে মিল নেই। আর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার আগে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টের মতো স্পর্শকাতর স্থানের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এমন ঘটনায়। এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কার্যক্রমকে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকারের উচিত বিষয়টিকে হালকাভাবে না নেওয়া বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা সুরক্ষা করা এক্ষেত্রে জরুরি।