দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুরোনো জেলখানায় যেখানে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে, সেই ভবনটি সংস্কার করা হবে। কেরানীগঞ্জ কারাগারে মহিলা বন্দিদের রাখার জন্য যে ওয়ার্ড সেটি প্রস্তুত ছিল না। সে কারণেই তাকে এতদিন পুরোনো জেলখানায় রাখা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের মহিলা কারাগার এখন প্রস্তুত। কাজেই তাকে এখন সেখানে রাখা যাবে।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব রকমের চেষ্টাই সরকার করছে। সময়মতো একটি সুসংবাদ পেলেও পেতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো এবং তিনি রোজা রাখছেন। তবে তিনি ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আগে ইনসুলিন নিতেন না, সেজন্য ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে ছিল না। এখন উনি (খালেদা জিয়া) ইনসুলিন নিচ্ছেন, এখন ওনার শরীর মোটামুটি ভালো আছে, আমরা যেটুকু খবর পেয়েছি। আমরা খবর পেয়েছি উনি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ।
তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তাকে ছেড়ে দিলে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যে ধরনের রোগে তিনি ভুগছেন, সেগুলো অনেক দিনের পুরোনো রোগ। যেমন আর্থাইটিস ও ডায়াবেটিস। সেগুলো তার পুরোনো রোগ, সেগুলো তো চলছেই। সেগুলো চলছে বলেই তিনি হাসপাতালে আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে আদালতে রূপান্তর করে সেখানে খালেদা জিয়াকে রেখেছিলাম। আমরা সেটাকে জাদুঘরে পরিণত করছি, প্রোগ্রাম নিয়ে নিয়েছি। অনেক অংশই ভেঙে ফেলা হবে। কাজেই ওনাকে আর ওখানে রাখা যাবে না।
ভালো আছেন বলছেন, তাহলে হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়া কবে ছাড়া পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মিন করেছি যে, তার অস্বাভাবিক কিছু হয়নি। কারাগার থেকে আরেকটু ভালো সেবা যাতে পান সে জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জে কীভাবে রাখা হবে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, জেল কোড অনুযায়ী যতখানি ব্যবস্থা থাকা দরকার, ঠিক সেই রকম ব্যবস্থাই হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশে নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের সংখ্যা মহামারী আকারে বেড়ে গেছে। আপনি কি মনে করেন দ্রুত শাস্তি না হওয়ায় মানুষ এ ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি আপনার সঙ্গে একমত নই। আপনি সারা পৃথিবীর জরিপ দেখেছেন? সেখানে কি আমরা মহামারী আকারে মনে হয়? জরিপ নিয়ে দেখবেন, কোন দেশে কতটি রয়েছে, আমাদের দেশে কত।

তিনি বলেন, যে কয়টা ঘটনা ঘটেছে, কিশোরগঞ্জ ও অন্যান্য জায়গায় সবগুলো আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে, ধরা হয়েছে, ১৬৪ ধারা হয়েছে। আমাদের কাজটা আমরা করে দিচ্ছি। তারপর বিচার বিভাগের কাজ বিচার বিভাগ করেন। সেখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের যে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা কিন্তু পুলিশ করছে। এই ধরনের ঘটনা যে কোনো দেশে একদম নেই তা আপনারা বলতে পারবেন না। সব দেশেই আছে, কমবেশি আছে। আমাদের দেশে একেবারে মহামারী আকার ধারণ করেছে, আমার মনে হয় এই উক্তিটি সঠিক নয়।

সর্বশেষ..