কে অ্যান্ড কিউ’র সঙ্গে একীভূত হচ্ছে মাল্টিসোর্সিং কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৌশল খাতের জেড ক্যাটেগরির কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া মাল্টিসোর্সিং লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, মাল্টিসোর্সিং লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিকে কে অ্যান্ড কিউর সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদ। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন ও বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) সাধারণ শেয়ারহোল্ডরদের অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কোম্পানি মেসার্স মাহফেল হক অ্যান্ড কোংয়ের সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের প্রতিবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন করেছে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত হিসাববছরে এ কোম্পানির পুনর্মূল্যায়িত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৩ টাকা। এ সম্পদের বুকভ্যালু ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৩৪ হাজার ৭২৩ টাকা। এক্ষেত্রে রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৬১ হাজার ১৫০ টাকা।
এদিকে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কে অ্যান্ড কিউ’র শেয়ারদর ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৪ টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে সর্বশেষ লেনদেন হয় ২০৯ টাকায়। লেনদেন শেষে সবশেষ দর হয় ২০৯ টাকা ৮০ পয়সা। গতকাল ৫৬২ বারে কোম্পানিটির ৭৯ হাজার ৮২৭টি শেয়ার লেনদেন হয় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়। গতকাল শেয়ারটির দর ২২২ টাকা থেকে ২০৬ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ২২২ টাকা। সর্বনি¤œ দর ছিল ৫৫ টাকা ৩০ পয়সা।
সবশেষ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, (জানুয়ারি-মার্চ) ২০১৮ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে হয় ৩০ পয়সা। জুলাই ১৭ থেকে মার্চ ১৮ পর্যন্ত ইপিএস হয়েছে ৬৯ পয়সা, যেক্ষেত্রে আগের বছর একই সময়ে ৯৯ পয়সা লোকসানে ছিল ইপিএস। ৩১ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ১০ টাকা ৭৬ পয়সা লোকসানে ছিল, যা আগের বছর একই সময়ে ১২ টাকা ৪৯ পয়সা লোকসানে ছিল।
১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কে অ্যান্ড কিউ দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়াতে জেড ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির প্রাইজ আর্নিং রেশিও ২২৮ দশমিক ০৪। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে পিই রেশিও ৪১৯৬। ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত ও ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ৪৯ লাখ দুই হাজার ৫৩০টি। কোম্পানির মোট শেয়ারের ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যংশ দেয়নি। ওই সময় শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে দুই পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে দায় ছিল ১১ টাকা ৪৯ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরেও কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ওই সময় ইপিএস হয়েছে পাঁচ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যে দায় ছিল ১১ টাকা ৪৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা।