কৈশোর মনের যত্নে মা-বাবার ভূমিকা

কৈশোর যেন দুর্বার, দুঃসাহস দেখানোর সময়। এ সময়ে তাই তাদের যতেœ বিশেষ ভূমিকা রাখা উচিত মা-বাবার। বন্ধুর মতো পাশে থাকতে হবে এ বয়সী সন্তানদের। কৈশোরকে সুন্দর করে তুলতে অভিভাবকদের যা করা উচিতÑ

 

সন্তানকে সঙ্গ দিন

ওকে বোঝার চেষ্টা করুন

ভালোবাসুন সন্তানকে

মানসিকভাবে ওর সঙ্গেই থাকুন, যেন নিঃসঙ্গ বোধ না করে

ভালোবাসুন। এর প্রকাশও দেখান

ওর কাজকে ভালোবাসুন

ওর প্রতি যে আগ্রহ রয়েছে তা প্রকাশ করতে ভুলবেন না

সন্তানের কাজে সহায়তা করুন

ওকে বোঝান, নিজের গড়ে ওঠার জন্য স্কুলে যাচ্ছে, কাজকর্ম শিখছে

সুরক্ষা দিন তাকে

সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাব তৈরি করা শেখান

সন্তানের সামলানোর ভার কতটুকু? ও যতটুকু সামলাতে পারে তেমনই কাজের দায়িত্ব দিন

চেষ্টা করলে সবই সম্ভব, এটা বোঝাতে হবে

ওর প্রতি দৃঢ় অথচ নমনীয় আচরণ করুন

শেষ বলে কিছু নেই, এটা তার মনে গেঁথে দিন

সন্তানের জন্য আলোচনার রাস্তা সবসময় খোলা রাখতে হবে

ভুল হলে বকাঝকা করবেন না, ভুল থেকে শিখতে হয় এটা শেখাতে হবে

তার মনের ভাবনা জানার চেষ্টা করুন। ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন

ওর কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে

খুঁজে দেখুন কখন কোন ব্যাপারে প্রশংসা করে ওর আত্মবিশ্বাস
বাড়ানো যায়

ওকে কখন অভিনন্দন জানানো যায়, তা জানুন

অহেতুক প্রশংসা করে আত্মম্ভরি করে তুলবেন না কখনও

পাঁচজনের সামনে ওকে খাটো করবেন না

পরিবর্তিত পরিস্থিতি কীভাবে মানিয়ে নিতে পারে সে ব্যাপারে উৎসাহ দিন

হুটহাট করে সন্তানের কাজে নাক না গলানোই শ্রেয়

পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশেষ করে জগৎ, জীবন কিংবা সংসারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে শেখান

র স্বপ্ন আশা-আকাক্সক্ষাগুলো জানার চেষ্টা করুন। এ বিষয়ে ওকে উৎসাহিত করুন

ওর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করুন। বাস্তবায়নের পথ বাতলে দিন

পরিকল্পনামাফিক যেন কাজকর্ম শুরু করতে পারে সে বিষয়ে নজর রাখুন

বিপদে যেন সাহায্যের জন্য
সবসময় মুখিয়ে না থাকে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিন

হঠাৎ তার ব্যবহার পাল্টে গেলে ধীরস্থির হয়ে তার মনোভাব জানার চেষ্টা করুন

বাইরের কাজের জন্য মানসিকভাবে তাকে প্রস্তত হতে সময় দিন

বন্ধুদের সম্পর্কে যা বলছে তা পছন্দ না হলেও আগ্রহ নিয়ে শুনুন, ওর আলোচনাকে মর্যাদা দিন

অনেক ক্ষেত্রে তর্কযুদ্ধ কিংবা মতদ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এগুলো সামলানোর দায়িত্ব বাবা-মায়ের

সমাজ তার কাছে কী আচার-আচরণ ও কাজ আশা করে, তা শেখান

এ সমাজে যে কোনো কাজই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা বোঝাতে পারেন

সুনাগরিক হওয়া গুণাবলি এ বয়সেই শেখাতে হয়

পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধগুলো জাগিয়ে তুলুন তার মধ্যে

নিজস্ব মূল্যবোধ যেন গড়ে তুলতে পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকুন

কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলার মানসিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করুন

কৈশোর অবস্থা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, একে আত্মস্থ করার সময় দিতে হবে

রাহুল সরকার