কোদলা মঠ

বাগেরহাট জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোদলা মঠ। সদর উপজেলার যাত্রাপুর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। অযোধ্যা মঠ নামেও এটি পরিচিত। নামকরণে রয়েছে ‘অযোধ্যা’ নামক একটি গ্রামের ভূমিকা। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মতে, এটি প্রকৃতপক্ষে একটি স্মৃতিসৌধ।

পার্শ্ববর্তী ভূমি থেকে মঠটি প্রায় ১৮ দশমিক ২৯ মিটার উঁচু। এর দেয়ালের প্রশস্ততা দুই দশমিক ৭৫ মিটার। মঠটির উত্তর দিক ছাড়া

পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছ। তবে প্রধান প্রবেশ দরজাটি দক্ষিণমুখী। মঠটির আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, ইটের ওপর নয়নাভিরাম কারুকার্যখচিত অলংকরণ। নানা ধরনের লতা-পাতার অলংকরণ পুরো মঠজুড়ে। কিছু অংশের আস্তরণ খসে পড়েছে। তবু মঠটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।

লতা-পাতার অলংকরণ মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। মনে হয় যেন কোনো পরিচিত মানুষের আবক্ষ মূর্তি মঠটির কোথাও ফুটে উঠেছে। আসলে এগুলোও লতা-পাতার অলংকরণ।

মঠটির ইতিহাস সম্পর্কে যতটুকু যা জানা যায়, তা এর ভেতরে প্রাপ্ত একটি ভগ্নপ্রায় বাংলালিপি থেকেই। জনৈক ব্রাহ্মণ ‘তারক ব্রহ্ম’র অনুগ্রহ লাভের জন্য মঠটি নির্মাণ করা হয়। সম্ভবত, এটি সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে নির্মিত। জনশ্রুতি আছে, যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য তার সভাসদ গৃহের পণ্ডিত ‘অবিলম্বা সরস্বতী’র স্মৃতির উদ্দেশে এ মঠটি নির্মাণ করেন। এ ‘অবিলম্বা সরস্বতী’র আরও কিছু কাহিনি এ অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল। ‘অবিলম্বা সরস্বতী’ যেমনি বিরল স্মৃতির পণ্ডিত ছিলেন, তেমনি ছিলেন গুণধর। বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলায়ও তার নামে মন্দির ও রাস্তা ছিল।

 

বেলাল হোসাইন বিদ্যা