দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কোনো খাতেই করের বোঝা বাড়বে না

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১৩ জুন ঘোষিত হতে যাচ্ছে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। এ বাজেটে কোনো খাতেই করের বোঝা বাড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বতর্মানে যে হারে কর নির্ধারিত আছে, সে রকমই থাকবে। এর থেকে কমবে ছাড়া বাড়বে না। একই সঙ্গে পাটসহ অন্য রফতানি খাতেও প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বর্তমানে যারা কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো হবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪০তম সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সঞ্চালনা করেন এফবিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও এফবিসিসিআইয়ের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্পের হাত ধরে পৃথিবী বাংলাদেশকে চিনতে ও জানতে পেরেছে। পোশাকশিল্পের পাশাপাশি আমরা অন্যান্য শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। এক সময় সোনালী আঁশ ছিল এক নম্বর রফতানি পণ্য। এখন রফতানির এক নম্বর পণ্য পাট নয় পোশাক। সোনালী আঁশকে আবার গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে খুশি হয়েছি। এখনও সেটা সম্ভব এবং এখনও বিশ্বে পাটের বাজার ও চাহিদা আছে। এখন সবাই পরিবেশবান্ধব পণ্য খুঁজছে। পাটশিল্প সে চাহিদা পূরণে আগের জায়গায় আসতে পারবে। পোশাকশিল্প যে ৪০ বিলিয়ন রফতানি করে পাট রফতানিতে সেটা সম্ভব নয়। পোশাকশিল্পের বিশ্ববাজার ৪০০ বিলিয়ন ডলার। পাট খাতে আগামী অর্থবছর এক টাকাও কর বাড়ানো হবে না। পারলে কমানো হবে।
সহজবোধ্য বাজেট প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই বুঝতে পারে এমন একটি সহজ বাজেট করা হবে। এ বাজেটে নতুনত্ব হচ্ছে অনেক সহজ ও সুন্দর কথা দিয়ে বাজেট করা। বাজেটে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার বিষয় থাকবে। আমরা জোর করে কর নেব না, কাউকে কষ্ট দেব না, কারও ওপরে এক টাকা বেশিও ছাপিয়ে দেব না। সক্ষমতা অনুযায়ী কর নেওয়া হবে। বাজেটে অনেক অনেক সংস্কার করা যাবে; যা কখনও স্বাধীনতার পর কেউ হাত দেয়নি। আমরা যে কাজটি আগে করব তা হলো-কাউকে হয়রানি করা হবে না। যেখানে সেবা দেওয়ার সুযোগ আছে তা আমরা করব।
মন্ত্রী বলেন, এনবিআরের সবাই অসৎ হয়ে যায়নি। অনেকে সৎ আছে। দু’একজন অসৎ মানুষের কারণে সবাইকে অসৎ বলা যাবে না। আমাদেরও সৎ হতে হবে। আমার একটি অ্যাডভাইজারি পলিসি ও কমিটি থাকবে। সেখানে এফবিসিসিআই, সরকারি কর্মকর্তা ও এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা থাকবে।
দুর্নীতি রোধের পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ জানানোর জন্য এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি নাম্বার থাকবে। যেটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। অন্যায় করলে কেউ পার পাবে না। আমার কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর সবাইকে নিয়ে বসব। সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ১০ শতাংশ; যা একেবারে কম। এ বছর যে বাজেট দেওয়া হবে তার ভিত হবে ২০৪১ সাল পর্যন্ত। আগে প্রতিনিয়ত এসআরও (আদেশ বা প্রজ্ঞাপন) দিয়ে বাজেটকে নষ্ট করা হতো। এবার থেকে আর কোনো এসআরও জারি করা হবে না।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, নিবিঘেœ ব্যবসা করতে পারবেন। যদি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা বা দুর্যোগ না আসে তাহলে আগামী পাঁচ বছর ধাপে ধাপে করের হার ও পরিমাণ কমবে। এবারও করহার বাড়ানো হবে না। কিন্তু করজাল বাড়াতে হবেই। এবার হোক বা না হোক আগামী বছর আমাদের তিন লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। সে জন্য আমাদের করহার সমান বা কম করে করজাল বাড়াতে হবে। যার সক্ষমতা যত বেশি তার থেকে বেশি কর আদায় করা হবে। নতুন আয়কর আইন সহজ করা হবে। দ্বৈতকর পরিহার করা হবে।
তিনি বলেন, এতদিন আমাদের ওপর যে অভিযোগ ছিল এদেশের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ কর দেয়। যারা দেয় তাদের দুর্ভাগ্য। তাদের থেকে আবার নেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই আরও বেশি কর দেওয়ার যোগ্য হয়েও দেয় না। এবার ঘোষণা দেওয়া হবে, আগামী বাজেটে এমন থাকবে না। যারা একটু বেশি দিয়ে আসছে তারা একটু কম দেবে, আর যারা দেয়নি তারা সবাই দেবে। সবাইকে করের আওতায় আনা হবে।
ভ্যাট বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয় করে অনেক বেশি সংস্কার করা হবে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আমরা ভ্যাটের একক হার রাখিনি। আগে যারা দুই শতাংশ ভ্যাট দিত সেখানে আমরা বাড়াব না। বাকি ৫, সাড়ে ৭ ও ১০ শতাংশ আমরা দেখব। আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে অসাধু পথে যাবেন না। বলা হয়, দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আমরা তা বন্ধ করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন থেকে আমদানি-রফতানি চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হবে। পোশাকের মতো সব খাতকে রফতানিতে কম বেশি ইনসেনটিভ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ..