বাণিজ্য সংবাদ

কোনো মাসেই রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন হয়নি চট্টগ্রাম কাস্টমসে

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: চলতি অর্থবছরের ১০ মাস শেষ হয়েছে গত ৩০ এপ্রিল। কিন্তু এ ১০ মাসের কোনো মাসেই দেশের সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। সর্বশেষ এপ্রিলে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও রাজস্ব এসেছে চার হাজার ২৯২ কোটি টাকা। অন্যদিকে জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে ৪৭ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যের বিপরীতেও ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৬২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম রাজস্ব আহরণ হওয়ায় প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ৪৭ হাজার ৫১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে সংস্থাটি আহরণ করে ৩৬ হাজার ৭১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১০ হাজার ৮০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কম। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রাজস্ব আদায় হলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে চার হাজার ৩৭৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে আহরণ হয়েছিল তিন হাজার ৩১১ কোটি ৯৩ টাকা। আগস্টে চার হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার বিপরীতে তিন হাজার ৪৬০ কোটি, সেপ্টেম্বরে তিন হাজার ৯০৮ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে তিন হাজার ৬৭১ কোটি, অক্টোবরে চার হাজার ৭১৯ কোটি ৬০ লাখের বিপরীতে তিন হাজার ৭৪২ কোটি ৭২ লাখ, নভেম্বরে পাঁচ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখের বিপরীতে তিন হাজার ৮১১ কোটি সাত লাখ, ডিসেম্বরে চার হাজার ৭৬৬ কোটি ৭৫ লাখের বিপরীতে তিন হাজার ৩৬০ কোটি ৩৯ লাখ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচ হাজার ১২ কোটি টাকার বিপরীতে চার হাজার ১৬৪ কোটি ৯৯ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে চার হাজার ৩৪০ কোটি ৫৮ লাখের বিপরীতে তিন হাজার ৩৫২ কোটি ৭৭ লাখ, মার্চে চার হাজার ৮৮০ কোটি ৬২ লাখ টাকার বিপরীতে তিন হাজার ৫৪৩ কোটি ৪৪ লাখ এবং এপ্রিলে পাঁচ হাজার ৫৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে চার হাজার ২৯২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
অর্থবছরে কোনো মাসে রাজস্ব আদায় না হওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বছর বছর লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হলেও সেই হিসেবে আমদানি বাড়ছে না। দেখা যায় কিছু কিছু সেক্টরে আমদানি আরও কমেছে। যেমন, অতীতে টাইলস যে পরিমাণ আমদানি হয়েছে বর্তমানে সে পরিমাণ হচ্ছে না। কারণ এখন দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। একই কারণে অন্যান্য খাতেও আমদানি কমেছে। ফলে যে পরিমাণে রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে সে পরিমাণ অর্জন হচ্ছে। তাছাড়া লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি কখনও অর্জন হয় না। কিন্তু দেখতে হবে প্রবৃদ্ধি ঠিক আছে কি না। আর প্রবৃদ্ধি ঠিক থাকলে কোনো সমস্যা নেই।

 

সর্বশেষ..