মার্কেটওয়াচ

কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ উদ্বেগজনক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে তারা নগদ লভ্যাংশের বিপরীতে বোনাস শেয়ার দিতে পারবে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রভিশন ঘাটতি থাকলে নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে না। যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে অর্থমন্ত্রী কোম্পানিরগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে বোঝা যায়, বাজেট প্রণয়নের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। ইতোমধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এখানে প্রণোদনার বিষয়টি নেতিবাচক হয়ে গেছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মাহমুদ হোসেন, এফসিএ এবং দ্য ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান।
মাহমুদ হোসেন বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটটি যদি তাত্ত্বিকভাবে বিবেচনা করি, সেক্ষেত্রে এবারের বাজেটের আকার অনেক বড়। আমাদের দেশ একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের দেশ এটা স্বীকার করতেই হবে। প্রতি বছরই বাজেটে একটি প্রতিযোগিতা থাকে অর্থাৎ বাজেটের গুণাগুণ না বাড়িয়ে আকার বাড়ানো হয়। এখানে বাজেটের গুণগত মান নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছেÑরাজনীতিবিদের কাছ থেকে বাজেট প্রণয়ন আমলাদের কাছে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন এ বাজেটে রিটেইন আর্নিংস বা বোনাসের ওপর কর ধার্য করেছে এটি আসলে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য অন্তরায় স্বীকার করি। তবে এ বাজেটে সম্পদশালীদের বেশি কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিন্ম ও মধ্যম আয়ের লোকদের কোনো কর সুবিধা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। এটা নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। একটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকার জন্য বড় আশঙ্কার বিষয়।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এটি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। এ ধরনের প্রণোদনা পুঁজিবাজারে দরকার রয়েছে। এতে যারা স্বল্প আয়ের বিনিয়োগকারী তারা বাজারে আসতে উৎসাহী হবে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেলে তার জন্য কোনো কর দিতে হবে না। দ্বিতীয়ত, বোনাস শেয়ারের লভ্যাংশকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোনো কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বোনাস শেয়ার দিলে, তার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এখানে কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয়েছে। কারণ কোম্পানি কর দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়। আসলে এখানে কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে পুঁজিবাজারে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিলে ৬০টি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে সেসব কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের বিপরীতে বোনাস শেয়ার দিতে পারবে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রভিশন ঘাটতি থাকলে নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে না। এখন কথা হচ্ছে যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে অর্থমন্ত্রী কোম্পানিরগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছেন। এক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, বাজেট প্রণয়নের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
ইতোমধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শোনা যাচ্ছে, পুঁজিবাজার থেকে অনেক কোম্পানি বেরিয়ে যেতে পারে এবং নতুন কোনো কোম্পানি বাজারে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করবে না। এখানে প্রণোদনার বিষয়টি নেতিবাচক হয়ে গেছে। তবে এখনও সময় আছে বিষয়টি বিবেচনা করার।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..