মার্কেটওয়াচ

কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করলেও লভ্যাংশ দিচ্ছে না

অনেক কোম্পানি ভালো মুনাফা করছে; কিন্তু সেভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না। অর্থাৎ ১০ টাকা মুনাফা করলে দুই টাকা দেওয়া হচ্ছে। আবার ৯টি কোম্পানি ভালো মুনাফা করলেও ভালো কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ৯৩টি কোম্পানি মুনাফা করে কোনো নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিয়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীরা নগদ লভ্যাংশের জন্যই বিনিয়োগ করে থাকেন। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান এবং দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সিনিয়র নিউজ কনসালটেন্ট রায়হান এম চৌধুরী।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থায় গতি ফেরাতে গত ২৯ এপ্রিল পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে বাজারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমোদন লাগবে না, আইপিওকালীন সব শেয়ারে তিন বছর লক-ইনসহ আরও অনেক বিষয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে গত বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক প্রজ্ঞাপনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এখানে যেসব সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেগুলো বাজারের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ভালো। তবে এর সুফল তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে না। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার-সংক্রান্ত কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা এক্সপোজার লিমিট গণনা থেকে অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের হিসাব বাদ দিতে সার্কুলার জারি করেছে। পাশাপাশি অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ হিসেবে রয়েছে ইকুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টিবল কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টিবল বন্ড, ডিবেঞ্চার ও ওপেন-এন্ড (বেমেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড প্রভৃতি। এ বিষয়গুলো বাজারসংশ্লিষ্টদের বহুদিনের প্রত্যাশা ছিল। বিষয়গুলো বহুদিন পর হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাস্তবায়ন করেছে। এখন কথা হচ্ছে, বিএসইসি একগুচ্ছ শুধু ভালো সিদ্ধান্ত নিলেই বাজার ভালো হবে, তা কিন্তু নয়। বাজারে বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী দরকার। এখন বাজারে বিনিয়োগকারী কী করলে বাড়বে বা কোন পদ্ধতিতে বাড়বে সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। বাজার কিছুদিন বাড়ল, আবার টানা ছয় মাস নিন্মগতির দিকে থাকল, এক্ষেত্রে যারা কিছু প্রফিটের আসায় বাজারে বিনিয়োগ করেন, তারা প্রতিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১৭ সালে বাজার ভালো ছিল; কিন্তু আবার ২০১৮ সালে নিন্মগতি ছিল। ২০১৯ সালে নির্বাচনের এক থেকে দুই মাস বাজার ভালো ছিল। কারণ, দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ ভালো, রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন কিন্তু আবার বাজার নিন্মগতির দিকে অবস্থান করছে। এ বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের বাজারের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। এছাড়া আরও অনেক কারণ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক কোম্পানি ভালো মুনাফা করছে কিন্তু সেভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না। অর্থাৎ ১০ টাকা মুনাফা করলে দুই টাকা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও বিএসআরএম ভালো মুনাফা করেছে; কিন্তু সে অনুযায়ী লভ্যাংশ দেয়নি। এগুলো কিন্তু অনেক ভালো কোম্পানি। আমরা বলি, বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে কিন্তু ওইসব কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীরা আশানুরূপ লভ্যাংশ পান না। আবার ৯টি কোম্পানি ভালো মুনাফা করেছে; কিন্তু কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ৯৩টি কোম্পানি মুনাফা করে কোনো নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিয়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীরা নগদ লভ্যাংশের জন্যই বিনিয়োগ করে থাকেন। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসইর ভালো নজরদারি করতে হবে। একটি কোম্পানি ১০ টাকা মুনাফা করলে কেন বিনিয়োগকারীদের দুই টাকা মুনাফা দেবে!
রায়হান এম চৌধুরী বলেন, আসলে বাজার সমস্যা হচ্ছে সমন্বয়হীনতার অভাব। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে। যখন বাজারে কোনো সমস্যা হয়, তখন সঠিক সময়ে সে সিদ্ধান্ত আসে না। যখন আসে, তখন সে সিদ্ধান্ত কোনো কাজে আসে না। আর এখানে শুধু বিএসইসি ও ডিএসইর একার দায়িত্ব নয়, এখানে কোম্পানিগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাজার ভালো করতে হলে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর বড় সমস্যা হচ্ছে, অন্যান্য খাতের তুলনায় বাজার ও ব্যাংক খাতে অনেক সুশাসনের অভাব রয়েছে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..