কোম্পানি তালিকাচ্যুত করার আগে সময় দেওয়া উচিত

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর যাবতীয় তথ্য থাকে। কিন্তু একজন বিনিয়োগকারীর কাছে তা থাকে না। কাজেই হঠাৎ করে কোনো কোম্পানিকে বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করা হলে বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই হঠাৎ করেই কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত না করে সময় দেওয়া উচিত। কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার আগে তদন্ত করে ওই কোম্পানির খারাপ খবরগুলো বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে দেওয়া উচিত। এতে বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানি সম্পর্কে সচেতন হবে এবং পরবর্তীতে তালিকাচ্যুত করার পরে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায়ভার কারও ওপর বর্তাবে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। মোশতাক আহমেদ সাদেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী, এফসিএ এবং শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের পরিচালক মো. মঈনউদ্দিন।
মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩টি কোম্পানি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দুটি কোম্পানিকে বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। যে ১৩টি কোম্পানি নিয়ে বর্তমানে কথা হচ্ছেÑতার মধ্যে কয়েকটি কোম্পানির ৪৯ শতাংশের মতো শেয়ার সরকারের কাছে রয়েছে এবং কিছু নামকরা গ্রুপের কোম্পানিও আছে। এসব কোম্পানির গত পাঁচ বছরের কর্মক্ষমতা নেতিবাচক পর্যায়ে চলে যাওয়াতে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কী কারণে এমন হচ্ছে। তাছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোম্পানিগুলোর নিয়মিত এজিএম করা উচিত এবং প্রফিট অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া সবার কাছেই প্রত্যাশিত। কারণ শেয়ারহোল্ডাররা বাজারে আসেই মুনাফার আশায়। তারা যদি এখান থেকে কোনো মুনাফাই না পায় তাহলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লাভ কি? তাছাড়া এ কোম্পানিগুলোর আইপিওতে আসার আগে অবশ্যই আর্থিক অবস্থান ভালো ছিল। যার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চিন্তা করেছে বাজারে আসার মতো সামর্থ্য তাদের আছে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় পরে এসে তারা বুঝতে পারল আসলে তাদের কর্মক্ষমতা ভালো নয়। যে কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের বাজার থেকে তালিকাচ্যুত বা পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে। তাছাড়া বাজারে এমন কাউকে রাখা উচিত নয়, যারা শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। কাজেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ সিদ্ধান্ত যথাযথ ও সময়োপযোগী হয়েছে। তাদের এ কাজগুলো আরও আগে থেকেই করা উচিত ছিল।
মো. মঈনউদ্দিন বলেন, যখন পুঁজিবাজার থেকে একটি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হয় তখন ওই কোম্পানির সঙ্গে কিছু শেয়ারহোল্ডার কিন্তু জড়িত থাকে। কথা হচ্ছেÑশেয়ারহোল্ডাররা যখন বিনিয়োগ করে তখন তার অধিকার আছে যে কোনো শেয়ারে, যে কোনো দরে বিনিয়োগ করার। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে যে কোনো কোম্পানির সব তথ্য থাকে। তাছাড়া তারা চাইলেই যে কোনো কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে তাদের তথ্যগুলো জানতে পারে। এ কাজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দুজনই করতে পারে। আর স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা। কোনো কোম্পানি গত চার-পাঁচ বছর যাবৎ উৎপাদন বন্ধ। কোনো কোম্পানি চার-পাঁচ বছর যাবৎ ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না এবং ওই কোম্পানির মালিকদের কর্মকাণ্ড স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে থাকে। কিন্তু একজন বিনিয়োগকারীর কাছে তা থাকে না। কাজেই হঠাৎ করে কোনো কোম্পানিকে বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করা হলে বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই হঠাৎ করেই কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত না করে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা উচিত। কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার আগে তদন্ত করে ওই কোম্পানির খারাপ খবরগুলো বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে গিয়ে তাকে তালিকাচ্যুত করা উচিত। এতে বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানি সম্পর্কে সচেতন হবে এবং পরবর্তীতে তালিকাচ্যুত করার পরে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায়ভার কারও ওপর বর্তাবে না। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম