সুশিক্ষা

ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির ইফতার

 

রোজা মুসলমানদের জন্য অবশ্য পালনীয় বিধান। তাই শেষরাতে সাহরির পর দিনশেষে ইফতার তাদের জন্য পরম আনন্দের। এ আনন্দ সবখানে সমান হলেও কিছুটা ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইফতার। এখানকার ইফতারে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে যোগ দেয় অন্য ধর্মের বন্ধুরাও। সবকিছু ছাপিয়ে এ আয়োজন হয়ে ওঠে সম্প্রীতির বন্ধন হিসেবে।
গোধূলিবেলায় বিকালের নরম রোদে সবুজ ঘাসের চাদরে বৃত্তাকার হয়ে বসে আছে ১০ থেকে ১৫ বন্ধু। বৃত্তের মাঝে বিছানো পত্রিকা। তাতে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ একসঙ্গে মাখানো। অপেক্ষায় সবাই মুয়াজ্জিনের আজানের। ইফতারসামগ্রী খুব বেশি না হলেও সবার চোখে-মুখে উচ্ছ্বাসের ছটা দেখা যায়। সবাই মশগুল আড্ডায়, তবে কেউ কেউ ব্যস্ত শেষ মুুহূর্তের শরবত বা অন্য সামগ্রী তৈরিতে। শুক্রবার শেষ বিকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের চিত্র এটি। মাঠ ছাড়াও পেয়ারাতলা, টিএসসির সিঁড়ি, জিয়া হল মোড় ও ডায়না চত্বরেও এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নানা দলে ভাগ হয়ে আয়োজন করছে ইফতারের। পরিবারের সঙ্গে সাহরি-ইফতার করতে না পারার কষ্ট ভুলে যায় তারা এ সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে পেয়ে। এ ক্ষুদ্র আয়োজনে চলে খুনসুটি আর আড্ডা। ইফতার আয়োজনে থাকে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, শরবত ও কলাসহ আর কয়েকটি ফল। এতেই সবাই খুঁজে পায় এক নির্মল আনন্দ। রমজানজুড়েই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন থাকে চোখে পড়ার মতো।
বন্ধুদের আয়োজন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন তো আছেই। এভাবে মাসজুড়ে একের পর এক সংগঠনের ইফতার আয়োজন চলতে থাকে।
রোজা পালনের দুটি বড় মাধ্যম হলো সাহরি ও ইফতার। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে রমজান। তবে বাঁধাধরা নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলে না কিছুই। ক্লাস-পরীক্ষা থাকায় অনেকে ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের কাছে যেতে পারে না। আবার অনেকে আবাসিক হল খোলা থাকায় চাকরির পড়া বা বন্ধুদের সঙ্গে থেকে যায় হলে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাইদুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহরি-ইফতার মানেই আলাদা অভিজ্ঞতা। শেষরাতে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসে হলের ডাইনিংয়ে সাহরি খাওয়ার মাঝে থাকে অন্যরকম রোমাঞ্চ। ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসের ওপর পত্রিকা বিছিয়ে সহপাঠী বা বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করলে সব ক্লান্তি এক নিমিষে দূর হয়ে যায়।
বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেওয়া হƒদয় পাল বলেন, এ এক অসাধারণ অনুভূতি। সবার সামনে মুখরোচক খাবার থাকার পরেও সবাই একই সময়ে তা গ্রহণ করছে।

ইমানুল সোহান

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */