ক্যারিয়ার গড়ুন ব্যাংকিংয়ে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ব্যাংকগুলোর অবদান অনেক। অন্য অনেক চাকরির চেয়ে এখানে বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে সুবিধাদিও বেশি। তরুণদের পছন্দের এ পেশা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাসান আদিল
বর্তমানে বাংলাদেশে বিশেষায়িত ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও প্রাইভেট ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় ৫০টির অধিক। ধীরে ধীরে পরিসর বাড়ছে, বিস্তৃত হচ্ছে ব্যাংকের পরিসরও। ব্যাংকগুলোর সময়-উপযোগী বেতন-কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার কারণে পেশাটি এখন তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
ব্যাংকের কাজ
ব্যাংক প্রধানত আমানত সংগ্রহ করে এবং ঋণ দেয়। এর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাংকে কাজের ক্ষেত্র
আধুনিক ব্যাংকে চারটি শাখায় কাজের ক্ষেত্র রয়েছেÑ
অপারেশন শাখা
সাধারণত এ শাখা আর্থিক প্রশাসন বিভাগ, অবকাঠামো বিভাগ, সফটওয়্যার বিভাগ, বিভিন্ন শাখা তদারক বিভাগ, মানবসম্পদ বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগের কাজ করে থাকে।
ইনভেস্টমেন্ট শাখা
ব্যাংকের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ভোক্তা বিভাগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিনিয়োগনীতি ও পরিকল্পনা বিভাগ এবং মনিটরিং বিভাগের কাজ এ শাখাগুলো করে।
ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং শাখা
এ শাখার উল্লেখযোগ্য বিভাগগুলো হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা বিভাগ, গার্মেন্ট বিভাগ, রাজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বৈদেশিক রেমিট্যান্স বিভাগ।
ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স শাখা
সাধারণত মনিটরিং বিভাগ, কমপ্লায়েন্স বিভাগ এবং অডিট ও তত্ত্বাবধান বিভাগের মাধ্যমে এ শাখার কাজ সম্পাদন করা হয়ে থাকে।
যোগ্যতা
বেশিরভাগ ব্যাংক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবিএ, এমবিএ চায়। আবার অনেক ব্যাংক চাকরির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে যে কোনো বিভাগ থেকে স্নাতক বা ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের মূল্যায়ন করে থাকে। অবশ্য ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়তে ব্যবসাসংক্রান্ত সার্টিফিকেট কিংবা ডিপ্লোমা পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক।
নিয়োগ প্রক্রিয়া
বেশিরভাগ ব্যাংক বর্তমানে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করে। সেক্ষেত্রে উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে।
বেতন কাঠামো
আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর কারণে ব্যাংকিংয়ের প্রতি চাকরিপ্রত্যাশীরা বেশি ঝুঁকছেন। এ পেশায় নতুনদের ক্ষেত্রে পদভেদে ১৮ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তি বেতন পান প্রায় চার-পাঁচ লাখ টাকা।