ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিকাড়া উদ্ভাবন

প্রযুক্তি ছাড়া আধুনিক যুগকে কল্পনা করা যায় না। মূলত সভ্যতার অগ্রযাত্রা ঘটেছে প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে।
প্রযুক্তির ব্যবহার কাজের প্রকৃতিতে এনেছে পরিবর্তন, বাড়িয়েছে মান। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রতিদিনের কাজের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনোভাবে প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত। প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবহার সময় ও কালের সীমা পেরিয়ে পুরো বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। নিঃসন্দেহে এটি বিস্ময়কর।
এ বিস্ময়ের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ক্লাব। জীবনযাত্রার মানকে আরও সহজতর করতে উদ্ভাবনের নেশা থেকেই যাত্রা শুরু ক্লাবটির। একদল বিজ্ঞানমনস্ক স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্ভাবকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা হয় এটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা অয়োজন করে আসছে বিজ্ঞানবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিজ্ঞানমেলা। মেলায় প্রদর্শিত হয় তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ক্লাবটির তৃতীয় বিজ্ঞানমেলা। এবারের মেলা উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায়। দুদিনব্যাপী এ মেলায় ছিল বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট শো, সায়েন্টিফিক বিজনেস আইডিয়া প্রেজেন্টেশন ও রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেয় রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৩৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। মেলায় প্রদর্শিত হয় তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি।
মেলায় আলাদা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন রোবট নিয়ে হাজির হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় ও তার বন্ধুরা। এ যন্ত্রমানবটি সিঁড়ি বেয়ে উঠবে। করবে হ্যান্ডসেক। বসতে পারবে, পড়ে গেলে উঠে দাঁড়াতে পারবে। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী ফাবলিহা এনেছিলেন সূর্যের আলো ব্যবহারে উড়তে পারা ড্রোন ‘ডি সোলার পাওয়ার কোয়াড কপটার’। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রাব্বিরের উদ্ভাবন ছিল কীভাবে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা যায়। বিজ্ঞানমেলায় বেড়াতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস রুবি, নাসরিন আক্তার, রুম্মানসহ তার বন্ধুরা বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আমরা বর্তমানে কোনো কিছুই কল্পনা করতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব বিজ্ঞানমেলার আয়োজন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। মেলায় তারা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ৪ডি মুভি বাস ও ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর বাসের ব্যবস্থা করেছে। এর মাধ্যমে আমরা উপভোগ করতে পেরেছি বিজ্ঞান সম্পর্কিত নানা বিষয়।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব বলেন, তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সায়েন্স ফিয়েস্টার আয়োজন করা হয়েছে এবার। রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর এমন আয়োজন করা হয়। এখানে অংশ নেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। আগামীতে এর থেকে বড় পরিসরে বিজ্ঞানমেলার আয়োজনের প্রচেষ্টা রয়েছে। কীভাবে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি করা যায়, সেজন্য বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট শো ছাড়াও সায়েন্টিফিক বিজনেস আইডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মূল্যায়ন করছিলেন বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা জহুরুল ইসলাম মুন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এমন ছোট ছোট উদ্ভাবনের মধ্য দিয়েই বিজ্ঞান এগিয়ে যাচ্ছে, যা সামনে বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।