হোম সম্পাদকীয় খাঁচায় মাছ চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হোক

খাঁচায় মাছ চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হোক


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

সিরাজগঞ্জে ফুলজোড় ও করতোয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের স্বাবলম্বী হওয়ার যে খবর গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশ হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। টেলিভিশনে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার এক মৎস্য কর্মকর্তার কাছে পরামর্শ নিয়েছিলেন তারা। সে অনুযায়ী কাজ করেই বদলে গেছে এ কয়েকজন যুবকের ভাগ্য। এ ধরনের চিন্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও ধন্যবাদ। বস্তুত মাছ চাষের মাধ্যমে যারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ইচ্ছুক, তারাও এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। এতে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে কিছু নদীকে আরও বেশি করে কাজে লাগানো যাবে এবং সংশ্লিষ্টদের ভাগ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাও অনেকটা সহজ হবে। যে ধরনের নদীতে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ সম্ভব, সেগুলোয় এমন

উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দেশে মৎস্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। জোগান বাড়ানো গেলে কিছুটা হলেও কম দামে মাছ খেতে পারবেন স্থানীয়রা।

নদীর মাঝে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের চেষ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান। সেদিক থেকে খাঁচা পদ্ধতির সুবিধা হলো, এতে নদীতে বাঁধ দিয়ে প্রবাহ বন্ধ করার প্রয়োজন পড়বে না। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের জন্যও এ পদ্ধতি হবে নদীবান্ধব। তারপরও নদী ব্যবহারে সচেতন থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের। খাঁচায় মাছ চাষের প্রশিক্ষণ প্রদানের সময় নদী ব্যবহারে তাদের সচেতন করা গেলে কাজটি সহজ হবে। প্রত্যাশা থাকবে, এ ব্যাপারে যথাযথ ধারায় এগোবেন সংশ্লিষ্টরা। এটা করা না হলে যেসব নদীর স্রোত একেবারে কম কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেগুলোর যে ক্ষতি হতে পারে, তাও রাখতে হবে বিবেচনায়। মনে রাখা চাই, নদীও আমাদের জাতীয় সম্পদ। শুধু পরিবেশ নয়, দেশের প্রত্যেকটি নদীকে প্রবহমান রাখতে হবে অর্থনীতির স্বার্থে।

অস্বীকার করা যাবে না, স্থানীয়ভাবে নদী ব্যবহারের অধিকার সবার রয়েছে। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গিয়ে এটি ব্যবহারে কারও যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকেও রাখতে হবে দৃষ্টি। বিশেষত নদীর মাঝামাঝি স্থানে ব্যাপকভাবে খাঁচা বসানো হলে সংশ্লিষ্ট নদীতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এ ব্যাপারেও উদ্যোক্তাদের থাকতে হবে সতর্ক। নদীতে মাছ চাষ ও এর ইজারাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদের উদাহরণ অনেক রয়েছে। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে কেউ কেউ ভাগ্য বদলালে তাতে যে আরও অনেকের দৃষ্টি পড়বে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এমন পরিস্থিতিতে নদী ব্যবহার ঘিরে সৃষ্টি হতে পারে কোন্দল। এটা যেন স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কলহের উপলক্ষ না হয়, সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। নদীকে বলা হয় জীবিকাদায়িনী। খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফল হওয়া গেলে প্রাণিজ আমিষের জোগানও বাড়বে নদী থেকে। আরও নানা কারণে নদীর কাছে আমরা ঋণী, অস্বীকারের উপায় নেই। সে জন্যই এর ব্যবহারে যত্নবান হতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। নদী প্রবহমান থাকলে এর অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোরও পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব।

নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে নদীর কাছ থেকে আর কী কী সুবিধা আমরা নিতে পারি, সে ব্যাপারেও উদ্ভাবনীমূলক চিন্তা রাখতে হবে অব্যাহত।