সম্পাদকীয়

খাদ্যপণ্য নিরাপদ করার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়

দেশের খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। এমনকি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের কারণে ক্যানসারসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধির হার ক্রমেই বাড়ছে বলে শোনা যায়। অবশ্য এ নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য তেমন পাওয়া যায় না। তবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে এতে সন্দেহ নেই। খাদ্য নিরাপদ করতে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কাজ করছে। তবে তাদের উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি সংস্থা দুটির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। এর অবসান হওয়া জরুরি।
খাদ্য নিয়ে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতও। গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘বিএসটিআই’র কাজে হাইকোর্টের অসন্তোষ’ ও ‘ভেজাল ৫২ পণ্যের তদারকির ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট’ শিরোনামে দুটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিএসটিআই’র কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করতে বিএসটিআই’র কাউন্সিল ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাউন্সিলের কার্যপরিধি কী তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্যের তদারকির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট।
সর্বোচ্চ আদালতে একইদিনে খাদ্যপণ্য বিষয়ক দুটি নির্দেশনা এসেছে। এটি দেশের সাধারণ মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে উদ্বেগের ব্যাপারটি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হতাশাজনক ব্যাপার হলো, খাদ্যে নিয়ে এই ভয়ানক অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন। তবে কোনোভাবেই তা বন্ধ করা যায়নি। বরং দিন দিন বাড়ছেই। এর থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে। খবরেই বলা হয়েছে, আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা বাজারে প্রাপ্ত পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া যে ৫২টি মানহীন ও নিন্মমানের পণ্য জব্দ করা হয়েছে তার সবই খাদ্যপণ্য।
একটি বিষয় কিন্তু স্পষ্ট, এসব খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির পেছনে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত। নিন্মমানের খাদ্যপণ্য ও তাতে ভেজাল মিশিয়ে বেশি মুনাফা করার লোভে জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন তারা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কারোর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সংস্থা দুটি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। খাদ্য নিরাপদ করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

 

সর্বশেষ..