খাদ্যশস্যের আমদানি কমাবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের আমদানি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত গতকাল তার বাজেট বক্তৃতায় এ সংক্রান্ত বিষয় জানান। এছাড়া খাদ্যশস্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এবার বাজেটে আগের মতো শুল্ক পুনর্বহাল করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ১২ লাখ এক হাজার টন খাদ্যশস্য আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্যের আওতায় পাঁচ হাজার টন চাল এবং ৯৬ হাজার টন গম আমদানি করা হবে। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে সাত লাখ টন চাল এবং চার লাখ টন গম আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (সম্পূরক বাজেটের আলোকে) খাদ্যশস্য হিসেবে চাল ও গমের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৫৩ হাজার টন।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে দুই দফা বন্যার কারণে বোরো ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে সরকার প্রায় ১০ লাখ টনের মতো চাল আমদানি করেছিল নিজস্ব সম্পদ থেকে। ফলে গত বছর সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য আমদানি বেড়ে গিয়েছিল। ওই সময়ে খাদ্যশস্য আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণাও করা হয়েছিল।
খাদ্যশস্য আমদানি কমানোর প্রস্তাব করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও বলা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়। তথ্যমতে, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টন চাল এবং দুই লাখ টন গম সরকারি অর্থ থেকে সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারের সংগৃহীত খাদ্যশস্য ছিল ১৫ লাখ ৪৭ হাজার টন।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় কৃষি খাতের বিভিন্ন উপখাতের প্রণোদনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘কৃষি খাতের প্রধান উপকরণসমূহ, বিশেষ করে সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শূন্য শুল্কহার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত ধান চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ পুনঃআরোপ করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গম, ভুট্টা, আলু ও কাসাভা থেকে উৎপাদিত স্টার্চের শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ করে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’
এছাড়া মৎস্য, পোলট্রি ও ডেইরি খাতের খাদ্যসামগ্রী ও উপকরণ আমদানিতে বরাবরের মধ্যে শুল্ক ও কর অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পোলট্রি ফিডের প্রয়োজনীয় উপকরণ সয়াবিন অয়েল কেক/ফ্লাওয়ারের শুল্ক হ্রাস করে শূন্য শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণ মূলক শুল্ক (আরডি) পাঁচ শতাংশ প্রস্তাব করা হয় নতুন বাজেটে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বরাবরই চাল উৎপাদন ও ভোগে পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় দেশের অন্তর্ভুক্ত। গত ৬ জুন বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকাশিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষিত শীর্ষ প্রতিবেদনে বলা হয়, চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ দেশ। অন্যদিকে চালের ভোগ-চাহিদার দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে।