খুলনা জেনারেল হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ

শুভ্র শচীন, খুলনা: খুলনা জেনারেল হাসপাতালে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। হাসপাতালের খাবার নিয়েও রোগীদের রয়েছে নানা অভিযোগ। সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল উন্নয়ন ও অসহায়-দুস্থ রোগীদের সেবামূলক সংস্থা এবং একুশে সামাজিক সংগঠন ১৯ নভেম্বর হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালে আন্তবিভাগে প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার ২০০ এবং বহির্বিভাগে প্রায় ১৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। সরকারিভাবে নিয়ম রয়েছে চিকিৎসকরা সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চেম্বারে অবস্থান করবেন। অথচ এ হাসপাতালে বেলা ১টার পর অনেক চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। রেডিওলজি চিকিৎসক না থাকায় বছরের পর বছর ধরে রোগীদের বাইরে থেকে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম বলে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ সুযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের আনাগোনা বেড়েছে হাসপাতালে।

জানা গেছে, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রথম শ্রেণির পদ রয়েছে ৩৪টি। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু, শিশু ও ইএনটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট রেডিওলজি ও প্যাথলজি এবং প্যাথলজিস্ট ও অ্যানেসথেটিস্ট চিকিৎসকসহ আটটি পদ খালি রয়েছে। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (রেডিওলজি) বিশ্বজিৎ ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি বদলি হওয়ার পর থেকেই পদটি শূন্য। এছাড়া সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি) গোলাক বিহারী ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর পিআরএল এবং চক্ষু কনসালট্যান্ট ২০১১ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর এলপিআরে চলে যাওয়ায় পদ দুটি শূন্য হয়। রেডিওলজিস্ট সানজিদা হুদাকে ২০১৬ সালে ৩ ডিসেম্বর স্ট্যান্ডরিলিজ করায় এ পদটিও শূন্য। এছাড়া মালী, নাইট গার্ড, সুইপার সংকট তো রয়েছেই। এর মধ্যে ওয়ার্ড বয় আয়া তিন জন, কুক-মশালচী ছয় জন, স্ট্রেচার বেয়ারা দুজন এবং সুইপারের আটটি পদ শূন্য রয়েছে। ভেষজ কর্মচারী দুটি পদের দুটিই শূন্য রয়েছে হাসপাতালটির জš§লগ্ন থেকে।

হাসপাতালটিকে ১৫০ থেকে ২৫০ শয্যায় বাস্তবায়ন, আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট চালু, জনবল বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্তকরণ, ডায়াগনস্টিক ব্যবসার অবৈধ কমিশন বন্ধ, জরুরি বিভাগ থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী পাঠানো বন্ধ, পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালু, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন এবং ২৪ ঘণ্টা সার্জারিসহ পৃথক গাইনি অপারেশন থিয়েটার চালু রাখার দাবি জানিয়ে হাসপাতাল উন্নয়ন ও অসহায় দুস্থরোগীদের সেবামূলক সংস্থা এবং একুশে সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে ১৯ নভেম্বর হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের রোগী লিপি আক্তারের মা রাশিদা বেগম জানান, ভাতে গন্ধ থাকে। ডাল, মাছ ও তরকারিতে মসলা নেই বললেই চলে। তরকারির ওপর কাঁচা তেল ভাসে। বাধ্য হয়ে এসব খাবার খেতে হয়।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার শেখ আজিজুল ইসলাম বাবু জানান, সুইপার ও ওয়ার্ড বয় সংকট থাকায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অপারেশন (ওটি) ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স রেহানা খাতুন জানান, দীর্ঘ পাঁচ-ছয় বছর ধরে রাতের বেলায় ওটি হচ্ছে না। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক সংকটের কারণে ওটি বন্ধ রয়েছে। দিনের বেলায় একজন চিকিৎসক রয়েছেন তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওটি করেন। তাই রাতের বেলায় ওটি বন্ধ থাকে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহবুবুর রহমান জানান, চিকিৎসকসহ জনবল সংকট থাকায় রোগীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জনবল সংকট দূর হলেই এসব সমস্যা থাকবে না। তবে রাতে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকদের অনুকূলে ওটি করা হচ্ছে। রান্না করে পরিবেশনের আগে খাবার তার কাছে পাঠায়। তখন মান ভালোই থাকে। মান খারাপের বিষয়ে ওয়ার্ড মাস্টারকে খোঁজখবর নিতে বলেছেন। অনিয়ম পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

সিভিল সার্জন এএসএম আব্দুর রাজ্জাক জানান, সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেম্বারে থাকার নিয়ম রয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক না আসার বিষয়ে তিনি অবগত নন। রাতের ওটি বিষয়ে তিনি জানান, আগে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছিল না, এখন আছে। তাছাড়া রাতেও জরুরি ভিত্তিতে ওটি হয়।