খুলনা সিটি নির্বাচন আজ

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, খুলনা: খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ আজ। নগরীর ২৮৯টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া নির্বাচনি দৌড়ে আরও রয়েছেন তিন প্রার্থী।
সূত্রমতে, খুলনা সিটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। চার হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে দুটি ভোটকেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এ দুটি কেন্দ্রের ১০টি বুথের দুই হাজার ৯৭৮ ভোটার ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মেয়র পদ ছাড়াও এ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ মোট ৪১টি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শতাধিক প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর খুলনায় ভোটার বেড়েছে ৫৩ হাজার। আর গত ১০ বছরে নতুন ভোটার বেড়েছে কমপক্ষে এক লাখ। এদের সবাই বয়সে তরুণ। সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও এরা অধিকার সচেতন এবং শিক্ষিত শ্রেণির। যে কারণে ভোটাররা দলীয় দৃষ্টির বাইরে থেকেও নগরীর উন্নয়নে ভোটের দিকে বাড়তি নজর দেবেন বলেই মনে করছেন প্রার্থীরা।
নৌকার প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, আগামী দিনে মেয়র কে হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে তরুণরা। এখনকার তরুণরা রাজনীতি সচেতন। আলাপচারিতায় অধিকাংশ তরুণই নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে যিনি ভালো হবেন তাকেই দেবে বলে জানায়।
তবে বিএনপি বলছে, বর্তমান সরকার দেশের জন্য ভালোর চেয়ে মন্দ করেছে বেশি। এ কারণে খুলনাবাসী তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আগামী দিনের কথা চিন্তা করেই ৫২ হাজার তরুণ নগরপিতা মনোনীত করবেন। তরুণারাই আমাদের মূল শক্তি। এদিকে নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু মাঠ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও খুলনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের আবহ।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার বলেন, ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা সিটি ভোটে এখন জাতীয় নির্বাচনের আবহ। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা দেখার জন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখের কিছু কম। এদের মধ্যে নতুন ভোটার আর শ্রমিক মিলিয়ে এক লাখ মানুষের মতামত কোন দিকে যায় সেটিই জয়-পরাজয়ের মীমাংসা করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।