হোম প্রচ্ছদ খেলাপির শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোর শেয়ার চাঙা

খেলাপির শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোর শেয়ার চাঙা


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

নাজমুল ইসলাম ফারুক : পুঁজিবাজারে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারদর বাড়ছে। ঈদের পরও দর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে খেলাপি ঋণের শীর্ষে রয়েছে এমন কিছু ব্যাংকের দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়া প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকের শেয়ারদরও বাড়ছে। এ তালিকায় রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১১ শতাংশ খেলাপি ঋণ থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারদর গত আট কার্যদিবস ধরে বাড়ছে। গতকাল শেয়ারটি লেনদেন হয় ১৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে। অথচ গত ২০ আগস্ট শেয়ারটির দর ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। এদিকে গত জুনের শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৪৩ কোটি  টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১১ শতাংশ।

শেয়ারদর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ন্যাশনাল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম বুলবুল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয়ের কোনো কারণ নেই। জুনে যে পরিমাণ খেলাপি দাঁড়িয়েছিল, তা থেকে ইতোমধ্যে আমরা কিছু রিকভার করেছি। কয়েক দিন আগেও ১৫৮ কোটি টাকা রিকভার হয়েছে। বছর শেষে আশা করছি, খেলাপির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীরা হয়তো খোঁজখবর রাখেন, খেলাপির পরিমাণ কমছে। আর তাই শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাছাড়া শেয়ারদর বাড়ার অন্য কোনো কারণ দেখছি না।’

এদিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় মাসে অনেকটা বেড়েছে। জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩৯ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪৪৩ কোটি টাকা। খেলাপির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকটি প্রভিশন ঘাটটিতেও রয়েছে। অথচ অন্যান্য ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যাংকটির শেয়ারদরে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ব্যাংকটির শেয়ার ১৫ টাকা ৩০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট শেয়ারটি লেনদেন হয়েছিল ১৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। গত দুই সপ্তাহে শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

এদিকে গত ২০ আগস্ট এবি ব্যাংকের শেয়ারদর ছিল ১৯ টাকা ৭০ পয়সা। গতকাল তা  লেনদেন হয়েছে ২২ টাকা ৬০ পয়সা। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১৫ শতাংশ। একই সময়ে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ১২ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকের ৬ শতাংশ।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে বাজারে সূচক বেড়ে রেকর্ড গড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ার কারণে বাজার চাঙা হয়ে উঠেছে। এর ধারাবাহিকতায় লেনদেনও বাড়ছে। তবে যেসব ব্যাংকের শেয়ারদর বাড়ছে সেগুলো খেলাপি ঋণহার বেশি। অর্থাৎ খেলাপি তালিকায় শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোর দর বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।

তাদের মতে, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়ছে, বছরশেষে এসব ঋণের বিপরীতে প্রভিশন করতে গিয়ে সে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ গেইন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এসব কোম্পানির শেয়ারদরে হঠাৎ পতন হলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাই প্রকৃতপক্ষে এসব কোম্পানির দর কেন টানা বাড়ছে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

তবে যেসব ব্যাংকের শেয়ারদর বাড়ছে সেসব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ যে হারে বেড়েছে পরবর্তী সময়ে সেগুলো রিকভার করার চেষ্টা করছে ব্যাংকগুলো। আর বছরশেষে খেলাপির পরিমাণ আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে বেশ মুনাফার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

তারা আরও বলছেন, প্রভিশন সংরক্ষণের কারণে বিনিয়োগকারীদের আশানুরূপ লভ্যাংশ দেওয়া যায় না। তবে কিছু কিছু ব্যাংক বোনাস লভ্যাংশ দেয়। তাতে ব্যাংকের ক্যাপিটাল বড় হচ্ছে। আর তা ব্যাংকের জন্য ভালো, যদিও কোনো কোম্পানির জন্য এটা নেতিবাচক। ক্যাপিটাল বাড়লে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংকটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে বলে জানান তারা।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ জুন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫২৮ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের সাড়ে পাঁচ শতাংশ। এরপর রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক, যার দুই হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা খেলাপি, বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১১ শতাংশ। এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ২১৩ কোটি টাকা, বিতরণকৃত ঋণের পাঁচ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রাইম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকা, বিতরণকৃত ঋণের সাত দশমিক ৫৫ শতাংশ।