মার্কেটওয়াচ

খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে

ব্যাংক খাতে সুশৃঙ্খল ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ও অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া বা সুসম্পর্কজনিত ঋণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিত দৃশ্যমান ও শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আবার নতুন আরেকটি স্টক এক্সচেঞ্জ করার প্রস্তাব শোনা যাচ্ছে। এটা আসলে ঠিক হবে না। এমনিতেই বাজারের অবস্থা খারাপ, ভালো মানের ইকুইটির অভাব রয়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান এবং অর্থনীতিবিদ ও সাবেক চেয়ারম্যান বিএসইসি ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।
মো. রকিবুর রহমান বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য বিএসইসি বাজারসংশ্লিষ্ট বেশকিছু আইনের পরিবর্তন এনেছে। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে, যার কারণে বাজারে দীর্ঘদিন মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থাহীনতা কাজ করছে। তবে যে আইনগুলোর পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাজার স্থিতিশীল অবস্থানে যাবে বলে মনে করি।
ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বেশকিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হবে সেটাই প্রশ্ন। বিশেষ করে রিটেইনড আর্নিংসের ওপর কর ধার্য অর্থাৎ নগদ লভ্যাংশকে উৎসায়িত করা। বিষয়টি একদিকে ঠিক আছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হয়ে বাজারে আসবে। তবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারী তাদের লক্ষ্য থাকে দুটি। একটি ক্যাপিটাল গেইন এবং অন্যটি নগদ লভ্যাংশ। কিন্তু রিটেনইড আর্নিংসের ওপর সবাই যদি নগদ লভ্যাংশ দেয় সেক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর সম্প্রসারণে সমস্যা সৃষ্টি হবে। বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। কমে যাওয়ার বড় কারণ এ খাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে যাচ্ছে। কারণ ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকট। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আর ব্যাংকে ডিপোজিটের সুদের হারের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। যদি ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যায় সেক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। যেটা সম্প্রতি দেখা গেছে। আবার ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়াতে অর্থনীতির ভারসাম্য খর্ব হবে এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকসহ আরও বিভিন্ন খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। তাই ব্যাংক খাতে সুশৃঙ্খল ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ও অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া বা সুসম্পর্কজনিত ঋণ বন্ধ করতে হবে। যেমন কোনো ব্যাংকের পরিচালক তার আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঋণ দিচ্ছেন। আবার এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন কিন্তু ফেরত দিচ্ছেন না। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অর্থঋণ আদালতে হাজার হাজার মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে অনেক টাকা আদায় আটকে আছে। আইনের বেড়াজালে যাতে কেউ সুযোগ নিতে না পারে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগ নিলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার অভাব রয়েছে। তাই তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া আরও ভালো কোম্পানি আনতে হবে। ক্যাপিটাল মার্কেট শুধু ইকুইটি নির্ভর। তাই ইকুইটির পাশাপাশি বন্ড মার্কেট সম্প্রসারিত করতে হবে। আবার নতুন আরেকটি স্টক এক্সচেঞ্জ করার প্রস্তাব শোনা যাচ্ছে। এটা আসলে করা ঠিক হবে না। এমনিতেই বাজারের অবস্থা খারাপ, ভালো মানের ইকুইটি নেই এবং ইকুইটির পরিমাণ অনেক কম।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..



/* ]]> */