দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: খেলাপি ঋণ বর্তমানে যা আছে, তা থেকে আর এক টাকাও বাড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পাশাপাশি বিদ্যমান খেলাপি ঋণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে গতকাল ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে আমার একটি শর্ত ছিল। কোনো কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের (গতকাল) পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। আপনারা কীভাবে বন্ধ করবেন, কীভাবে টেককেয়ার করবেন, কীভাবে ম্যানেজ করবেন তা আপনাদের ব্যাপার। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলছি, আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, বৈঠকে আমরা ব্যাংক খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাই ব্যাংকের মালিক। প্রায় সবাই এসেছেন। তাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আপনাদের কাছ থেকে ব্যাংক খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো ভেরিফাই ও মূল্যায়ন করব। এ জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এ মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাব।
বৈঠকে বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালসহ অন্যান্য ব্যাংক মালিক উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আমরা একটি জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তা হলো নন-পারফরমিং লোন। এটি আপনাদের উৎকণ্ঠা, জাতির উৎকণ্ঠা, আমাদের উৎকণ্ঠা এবং আমার উৎকণ্ঠা। তবে আমার উৎকণ্ঠা কিছুটা কম। কেননা, এরই মধ্যে আমি দেখেছি যেভাবে যে পরিমাণ পত্রপত্রিকায় লেখা হয়, নন-পারফরমিং লোনের ভয়াবহতা আসলে সে মাত্রায় নয়। এটি এখনও সঠিক ব্যবস্থাপনায় রাখার পর্যায়ে রয়েছে। এ ঋণ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা হলো এটি বর্তমানে যে পরিমাণ আছে, তা-ই থাকবে। এটি আর বাড়তে পারবে না। এখানে যারা এসেছেন, তারা নিশ্চিত করবেন খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না বরং যা আছে, সেটিও ধীরে ধীরে কমাবেন। কীভাবে কমাবেন সেটি পরবর্তী মিটিংয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেব।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যেহেতু খেলাপি ঋণ হয়েই গেছে, তাই কোন ব্যাংকের কতটা খেলাপি আছে, সে বিষয়ে তারা আমাকেও তথ্য দেবেন। কার কাছে কত টাকা পাওয়া যাবে, এর মধ্যে কতটা আসল আর কতটা সুদ এসব বিষয়ে ব্যাংক মালিকরা আমাকে অবহিত করবেন। তাদের তথ্য আমাদের ব্যাংকিং বিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সঠিক কাজটি শুরু করতে পারব এবং তা যথাযথভাবেই করতে পারব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ব্যবসা করেন বাংলাদেশে, তারা সবাই প্রভাবশালী। পৃথিবীতে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, সবাই প্রভাবশালী। প্রভাবশালী দু-রকম। যারা রাজনীতি করেন, তারাও প্রভাবশালী; যারা ক্রিকেট ভালো খেলেন, তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসা-বাণিজ্য যারা করেন, তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসায়ীরা যদি প্রভাবশালী না হন, তাহলে বিনিয়োগ কীভাবে আসবে? কোথা থেকে কর্মসংস্থান হবে, কীভাবে হবে; দারিদ্র্য কীভাবে কমবে? প্রভাবশালী যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, তারা দেশের অর্থনীতির ৮২ শতাংশ। তাদের বাদ দিয়ে ১৮ শতাংশ নিয়ে আমি কীভাবে অর্থনীতি সাজাব? এটা করা আমার সামনে অবাস্তব এক চিন্তা। আপনারা যদি বলতে পারেন নন-পারফরমিং লোন এতটা, এসব মানুষ জড়িত, তারা খুব খারাপ। আমাকে দিন; আমি দেখব আমার সঙ্গে মেলে কি না।
বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, খেলাপি ঋণ কীভাবে কমানো যায়, কীভবে সহজ করা যায়Ñসে বিষয়ে আমরা কাজ করব। তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা নিয়ে অনেকে চলে গেছেন, আবার যারা ভালো ব্যবসা করেনÑহঠাৎ করে অনেকের ব্যবসার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। এভাবে আমরা খেলাপি গ্রাহকের শ্রেণীবিন্যাস করব। তারপর অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের সঙ্গে বসব। যারা ভালো ব্যবসা করবেন, তাদের কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়Ñসে বিষয়ে আমরা এ মাসের মধ্যেই একটি উদ্যোগ নেব। তবে এক্ষেত্রে এখানে পদ্ধতিগত জটিলতা আছে।
তিনি বলেন, আমরা অর্থমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছি যে, আজ থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না। সরকারের সহযোগিতা এবং আমাদের শক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খেলাপি ঋণ বাড়তে দেওয়া যাবে না।

সর্বশেষ..