দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

খেলাপি ঋণ কমে আসছে দাবি অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ কমেছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার মতে, খেলাপি ঋণ অবশ্যই কমেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের জুনে অধিকাংশ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমে এসেছে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কার্যকর করেছে। যারা ব্যাংক থেকে অন্যায়ভাবে টাকা নিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা মার্চে তা হয়েছে ২৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ; জনতা ব্যাংক অনেক বেড়ে গেছে, সেখানে ছিল ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ, সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংকে ছিল ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ, এটি কমে মার্চে হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকে ছিল ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ, সেটি হয়েছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ; সামান্য একটু বেড়েছে, বেসিক ব্যাংক ৫৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা মার্চে একই অবস্থায় আছে। বিডিবিএল ৫৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, তা এখন ৫৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, একটু কমেছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ছিল ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ, রাকাব ছিল ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ; এগুলোর সর্বশেষ ফিগার পাইনি, তবে এ দুই ব্যাংক বলেছে খেলাপি ঋণ বাড়েনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জুন নাগাদ সোনালী ব্যাংক ২৫ শতাংশে এসেছে, জনতা ব্যাংক ৩৫ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকেরও কমেছে ১৪ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংক ১৭ শতাংশে এসেছে। তবে বেসিক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের একই ফিগার রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপির হার ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। খেলাপির এমন উচ্চহার কমিয়ে আনতে বিভিন্ন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে গতকাল বৈঠক করলেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায়, খেলাপি ঋণ কমে আসছে। খেলাপি ঋণ থেকে এক্সিটের জন্য যে সুযোগ দিয়েছি সেটা বাস্তবায়ন হলে আরও কমে যাবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকঋণে সুদহার আমরা সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসব। সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ না হলে খেলাপি ঋণ বাড়ে। এতে করে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা উভয়ই ক্ষতিতে পড়ে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, হুট করে কেউ যদি বলে আমরা ভুল করেছি, এখন ঋণ পরিশোধ করব, সেটা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যারা অন্যায়ভাবে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, কিংবা টাকা নিয়ে দেশেই বালিশের নিচে রেখে দিয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে অন্যায়ের কারণে বর্তমানে অনেকেই জেলে রয়েছে। জনতা, ফারমার্সসহ অন্য ব্যাংকের অনেকেই জেলে রয়েছে। শুধু এমডি বা চেয়ারম্যানই নয়, পরিবারসহ জেলে রয়েছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। আজকে ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে একটা অ্যাসেসমেন্ট করলাম। এমনিভাবে প্রতি তিন মাস পরপর আমরা বসব।

সর্বশেষ..



/* ]]> */