সম্পাদকীয়

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি রোধে ব্যর্থতা অপ্রত্যাশিত

হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হওয়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ দীর্ঘদিন ধরে। এ উদ্বেগ কমাতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টরা নানা উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ বাস্তবে তার উল্টো ফলই আমরা দেখতে পাচ্ছি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটা আর্থিক খাতে বিপর্যয়ের সূচনা বললেও সম্ভবত ভুল হবে না। অথচ বিকল্প তেমন কোনো মাধ্যম না থাকায় ব্যাংক ব্যবহারে সবার আগ্রহ বেশি। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এ খাতে মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়াবে। সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি রোধে সব পক্ষ চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে আমরা মনে করি।
ঋণখেলাপি কমাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগেও ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার পরও এ অবস্থা চরম হতাশার। গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ বাড়ল ১৭ হাজার কোটি টাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না বলে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও উল্টো ১৭ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। মার্চ শেষে শ্রেণিকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকায়, যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
দেশের ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খল অবস্থার সঙ্গে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছে দীর্ঘদিন। দেখা যায়, ঋণ খেলাপ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা বেশি, যা কাম্য নয়। অথচ ছোট ঋণখেলাপি কম, পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। তার পরও ব্যাংকগুলোর বড় ঋণেই আগ্রহ বেশি। ফলে ঋণখেলাপিও বাড়ছে। আবার ঋণখেলাপি কমাতে নানা পদক্ষেপ ও সুবিধা দেওয়া হলেও তা কাজে আসছে না। এ পরিস্থিতি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ঝুঁকি এরই মধ্যে তৈরি করেছে সন্দেহ নেই।
ঋণখেলাপি কমাতে ভালো ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে যারা ঋণ খেলাপ করছে, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে। অথচ এসব ব্যাংকই সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকা উচিত ছিল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কঠোর ও সতর্ক হতে হবে, যার বিকল্প নেই। এছাড়া অনেক ব্যাংকই নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..