সুশিক্ষা

গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন নতুন নীতি কাঠামো

ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্প ও গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের সহযোগিতায় গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ন্যাশনাল পলিসি ওয়ার্কশপ অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব পাবলিক লাইব্রেরিজ শীর্ষক পলিসি কর্মশালা। দিনব্যাপী এ কর্মশালার উদ্দেশ ছিল গণগ্রন্থাগারবিষয়ক নীতিকাঠামো গঠনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত ও সুপারিশমালা সংগ্রহ করা।
এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের পরিচালক এজেএম আবদুল্লাহেল বাকী, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যান্ড্র– নিউটন ও লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কার্স্টি ক্রফোর্ড। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশীষ কুমার সরকার। অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল ও গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের কর্মকর্তারা।
গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, এর সেবা যুগোপযোগী, চাহিদানির্ভর ও কার্যকর করার জন্য একটি শক্তিশালী নীতিকাঠামো ও একটি সহায়ক সম্পূর্ণ নীতিমালা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি কে এম খালিদ। তিনি বলেন, একুশ শতকের উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী গণগ্রন্থাগার খাত তৈরির জন্য একটি যুগোপযোগী সম্পূর্ণ নীতিমালা দরকার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণগ্রন্থাগার খাতের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি এজেএম আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, গণগ্রন্থাগার খাতের একটি নতুন নীতিকাঠামো প্রণয়ন করা হলে তা গণগ্রন্থাগার খাতকে এর চিহ্নিত ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও গণগ্রন্থাগার নীতিমালার প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি অ্যান্ড্র– নিউটন বলেন, গণগ্রন্থাগার খাতের জন্য একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নে ব্রিটিশ কাউন্সিল সরকারের সহায়ক হতে আগ্রহী। তিনি গণগ্রন্থাগার নীতিকাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে উক্ত কর্মশালার আলোচনা ও সুপারিশমালাগুলোকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও এ কর্মশালাসংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি কার্স্টি ক্রফোর্ড বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রোগ্রাম ২০১৭ সাল থেকে গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নের জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে অ্যাডভোকেসি করে আসছে। এ খাতের জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব দেশ জাতীয় গ্রন্থাগার নীতি বাস্তবায়ন করেছে তারা একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সমবণ্টনভিত্তিক গ্রন্থাগার নেটওয়ার্কের সুফল ভোগ করছে। জাতীয় গ্রন্থাগারনীতি তৈরির ওপর জোর দিয়ে কার্স্টি বলেন, জাতীয় গ্রন্থাগার কৌশল, নীতিমালা ও আইনগুলো একটি দেশের গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব, সেবাদানের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো, গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্বকে বৈধতা দিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের জন্যও একটি নতুন ও যুগোপযোগী গণগ্রন্থাগার নীতিকাঠামো প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।
সভাপতির বক্তব্যে আশীষ কুমার সরকার বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রোগ্রাম গণগ্রন্থাগার অধিদফতরকে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, পলিসি অ্যাডভোকেসি, জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, গণগ্রন্থাগার খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পরিসর বৃদ্ধি করাসহ পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও তথ্যব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

সর্বশেষ..