গণপরিবহনের মানোন্নয়নে ব্যবস্থা নিন এখনই

ঢাকার গণপরিবহন নিয়ে অসন্তোষের অন্ত নেই। এ অসন্তোষ আসলে সারা দেশের গণপরিবহন নিয়েই। তবে রাজধানীর বিষয়টি নিশ্চয়ই আলাদাভাবে আলোচিত হবে। সম্প্রতি নগর চলাচল ও টেকসই নগর পরিবহন সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ফুটে উঠেছে ঢাকার গণপরিবহনের চিত্র। এ বিষয়ে শেয়ার বিজ গুরুত্বসহ একটি খবর প্রকাশ করেছে।
নগর চলাচল ও টেকসই নগর পরিবহন সূচকে (সুটি) ১০০ মানের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ৪৯ দশমিক ২১। ঢাকার গণপরিবহন নিয়ে খুব গবেষণার প্রয়োজন অবশ্য হয় না। খোলা চোখেই এটা দেখতে পাওয়া যায়। নগর পরিবহন পরিকল্পনা, পরিবহনে শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ, গণপরিবহনের পরিচালন ব্যয়, বাতাসের মান, গণপরিবহন হতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হারসহ ১০টি সূচক বিবেচনায় নিয়ে এক্ষেত্রে গণপরিবহনের সার্বিক মান তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গণপরিবহনের মানে। প্রকৃতপক্ষে এর গণপরিবহনের মান নির্ধারণের কোনো সূচক আছে কি না, সেটাই প্রশ্ন। বাহ্যিক অবস্থা কেমন হলে ঢাকায় গণপরিবহন হিসেবে চলতে পারবে, তার কোনো মানদণ্ড নেই। তবে ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে, এমন জোড়াতালি দেওয়া পরিবহন বিশ্বের আর কোনো রাজধানীতে দেখা যায় না। যাত্রী বহনকারী প্রায় প্রত্যেক গাড়ি রঙচটা, বিবর্ণ, ঘষা খাওয়া, জানালার কাঁচ ভাঙা, কখনও কখনও রশি দিয়ে গাড়ির বিশেষ কোনো অংশ বেঁধে রাখা ইত্যাদি দিক লক্ষ্য করা যায় ঢাকার গণপরিবহনে। খোদ বিআরটিসির ডাবল ডেকারসহ অধিকাংশ বাসই দৃষ্টিকটু, জোড়াতালি দেওয়া। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মানুষও বলতে পারবে, এসব গাড়ি কোনোভাবেই ফিটনেস পেতে পারে না।
বাইরের দৃশ্যের পাশাপাশি গণপরিবহনগুলোর ভেতরের অবস্থা আরও সঙ্গীন। গাড়ির ভেতরের আয়তন অনুযায়ী কয়টি সিট বসানো যাবে, তা দেখভালের সত্যি কেউ নেই। যাত্রী সিটে বসে ঠিকমতো পা রাখতে পারে না, জানালার কাচ হয়তো ভাঙা, না হয় ভাঙা কাচ সরিয়ে টিনের শিট দিয়ে বন্ধ করা, তেল চিটচিটে আর ছেঁড়া সিটের কভার। দেখলেই গা ঘিনঘিন করে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য ইঞ্জিন কভারে বসার ব্যবস্থা ইত্যাদি সব অব্যবস্থাই ঢাকার গণপরিবহনের সাধারণ চিত্র।
গত মাসে এ শহরের গণপরিবহনের অব্যবস্থা বন্ধ করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা একটি বড় আন্দোলনে নেমেছিল। সেখান থেকে অনেক কিছুই শিক্ষণীয় ছিল। কিন্তু ঢাকার গণপরিবহনে ওই আন্দোলন কোনো প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে না। সম্প্রতি সরকার অবশ্য ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়রকে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেছেন, কোম্পানি গঠন করে রুট পারমিট দেওয়া হবে। এ জন্য দুই বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এত দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করলে তো পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ ধারণ করবে। কোম্পানি গঠন করে রুট পারমিট বিতরণের জন্য সময় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু গণপরিবহনের মান বাড়াতে এত সময় নেওয়ার কোনো অবকাশ আছে কি? গাড়ির ফিটনেস সুনিশ্চিত করলেই গণপরিবহনের মান অনেকটা উন্নত হবে বলে ধারণা। কালক্ষেপণ না করে গণপরিবহনের মান উন্নয়নে এখনই ব্যবস্থা নেওয়াটা তাই জরুরি।