দুরে কোথাও

গণপরিবহনে চড়তে সদাচরণের বিকল্প নেই

খেয়াল করে দেখেছেন, গণপরিবহনে চড়া নারী যাত্রীরা ধাক্কাধাক্কি করে না। কারও পা মাড়িয়ে দেয় না। কনুই দিয়ে গুঁতো দেয় না। অপরিচিত যাত্রীর গায়ে হেলান দিয়ে বসে না। এর অর্থ, গণপরিবহনে আদবকেতা মেনে তবেই চলাচল করে তারা। পুরুষদেরও এমন অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
আসলে বিশ্বের যে কোনো বড় শহরে বাস করতে হলে কিংবা বেড়াতে গেলে গণপরিবহনে চলাচলের অভিজ্ঞতা আপনার হবেই। ঢাকার বাইরে বিশ্বের অন্য শহরে গিয়ে ঠেলাঠেলি, গুঁতোগুঁতি কিংবা ধাক্কা দিয়ে চললে আপনার কাছ থেকে দূরে থাকবে মানুষ। গণপরিবহনে সদাচরণ তাই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভেতর কিংবা বাইরের শহরে গণপরিবহনে চড়ার অভিজ্ঞতা সুন্দর ও ইতিবাচক করে তুলতে তাই এ পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারেন।
সঠিক লেনে যাতায়াত করুন: সব ধরনের ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। বাম লেন ধরে চলাচল করুন। হলওয়ে, সিঁড়িসহ অন্য চলাচলের জায়গায় বিষয়টি মাথায় রাখুন। কাউকে যদি অতিক্রম করতেই হয়, তাকে বাম দিকে রেখে অতিক্রম করুন, যেমনটি আপনি গাড়িতে বসে করে থাকেন।
অন্যদের উঠতে সুযোগ দিন: কর্মব্যস্ত সময়ে বাস-ট্রেনে নিজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আপনার পেছনের জনকেও ওঠার সুযোগ করে দিন। প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে জট বেঁধে যাবে। পেছনের মানুষটি বিরক্ত হবেন। এমনকি বিশৃঙ্খলার ফলে আহত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া বিরক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তো থাকেই।
বাস-ট্রেনের মাঝামাঝি অথবা পেছনের দিকে থাকলে নামার সময় অন্যকে ঠেলে নামতে অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। এ সমস্যা এড়াতে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেভাগে নামার প্রস্তুতি নিন। সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকুন। বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারবে যে, আপনি নামতে চাচ্ছেন। তখন তারাও আপনাকে নামার সুযোগ করে দেবে। হাত উঁচু করে কিংবা চেঁচিয়ে বাস থামানোর অনুরোধ করতে পারেন, এ অভ্যাস তেমন দোষের নয়। তবে সেটি যেন না করতে হয় সচেতন থাকতে হবে আপনাকেই।
গাড়ি ভাড়া পরিশোধ করুন: গাড়িতে চড়ার আগে ভাড়া প্রস্তুত রাখুন। তা সম্ভব না হলে গাড়িতে উঠে একটু আগেভাগে টাকা হাত কিংবা বুকপকেটে রাখুন, যেন যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারেন। অন্যথায় আপনার অহেতুক সময়ক্ষেপণ অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যের প্রতি সদয় হোন, ভদ্রতা বজায় রাখুন: নম্রতা ও ভদ্রতা কেবল অফিস-আদালত ও বাসাবাড়ির জন্যই নয়। গণপরিবহনে ভ্রমণেও সব সময় ভালো আচরণ করুন। চলন্ত গাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকতে কারও সমস্যা হতে দেখলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। প্রয়োজনে নিজের সিট ছেড়ে তাকে বসার ব্যবস্থা করে দিন। প্রবীণ, গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধীদের সম্মান দেখাতে ভুলবেন না।
জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখুন: শুধু নিজের জিনিসের নিরাপত্তার কথা ভাবলেই হবে না। আপনার ব্যাগ অথবা জিনিসপত্র যেন অন্যের সমস্যা না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। পেছনে ব্যাগ ঝুলিয়ে গাড়িতে উঠবেন না। কারণ, আপনার হাঁটা-চলার সময় অনেকে আঘাত পেতে পারেন। ভিড়ের মধ্যে পাশের সিটে অকারণে ব্যাগ রেখে অন্যকে কষ্ট দেবেন না। পাশের যাত্রী বলার আগে ব্যাগটি মেঝেতে রাখুন। নিচে রাখলে নোংরা হয়ে যাবে এ মনোভাব থাকলে কোলে রাখুন। যাত্রাকালে ট্রলি অথবা ফোল্ডিং ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে থাকলে সেগুলো গাড়িতে ওঠার আগে ভাঁজ করে নিন।
শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন: জোরে কথা বলা, ইলেকট্রনিকস যন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার ও উচ্চস্বরে গান করে শব্দদূষণের কারণ হবেন না। সেলফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনি হয়তো ফোনে কারও সঙ্গে মধুর আলোচনায় মেতে উঠেছেন। কিন্তু অন্যরা বিষয়টিকে ভালোভাবে নাও নিতে পারেন। এদিকেও নজর দিন। একান্তই গান শুনতে চাইলে শব্দ কমিয়ে দিন অথবা এয়ারফোন ব্যবহার করুন।
পরিবেশ দূষণ করবেন না: গণপরিবহনে চড়ার সময় অবশ্যই ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। বাস কিংবা ট্রেনে যাতায়াতকালে তীব্র পারফিউমের পরিবর্তে হালকা পারফিউম অথবা ডিওডোর‌্যান্ট ব্যবহার করুন। এগুলো শুধু বিরক্তির কারণই নয়, অনেকের অ্যালার্জিরও উদ্রেক করে। আপনার কারণে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে সেটা তো আপনি কখনও চাইতে পারেন না। গাড়িতে ভারী খাবার ও পানীয় না নেওয়াই উত্তম। এগুলোর ছড়ানো গন্ধ পরিবেশ নষ্টের পাশাপশি দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। বাস-ট্রেনের মেঝে ও সিটে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না। এগুলো যথাস্থানে ফেলুন, প্রয়োজনে আবর্জনা ক্যারিয়ার না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

 

সর্বশেষ..